দাঁত পরিষ্কারের পেস্টের আধুনিক যুগের আগমনের পূর্বে মানবজাতি বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও প্রাচীন উপাদান ব্যবহার করে দাঁত পরিষ্কার করত। লবণ, চুনের ছাই, কাঠের গুঁড়া, তেঁতুলের গুঁড়া, পুদিনা পাতা, নারিকেল তেল ইত্যাদি ঘর্ষণকারী পদার্থের মাধ্যমে ময়লা অপসারণের প্রচেষ্টা চালিত হতো। এই প্রথা কেবল শারীরিক পরিষ্কারের উদ্দেশ্যই পূরণ করত না, বরং স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা ও মুখের গন্ধ দূর করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। আজকের বাজারে পাওয়া আধুনিক পেস্টেও ঘর্ষণকারী উপাদান থাকে, তবে তার পরিমাণ ও গুণগত মান আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী নির্ধারিত।
প্রাচীন মিশর, গ্রীস, রোম ও ভারতীয় উপমহাদেশে দাঁত পরিষ্কারের ঐতিহ্য বহু শতাব্দী আগে থেকেই নথিভুক্ত। মিশরের ফারাওদের সমাধিতে পাওয়া হস্তলিপিতে লবণ ও চুনের মিশ্রণ ব্যবহার করা হতো বলে উল্লেখ আছে। গ্রীক চিকিৎসক হিপোক্রেটিসের রচনায় তেঁতুলের গুঁড়া ও পুদিনা পাতা দিয়ে দাঁত ঘষার পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। ভারতীয় ঐতিহ্যে 'দাঁত মশলা' নামে পরিচিত মিশ্রণ, যা তিলের তেল, সাদা চুন ও মধু দিয়ে তৈরি, প্রাচীন গ্রন্থে উল্লেখিত। এইসব উপাদান ঘর্ষণশক্তি, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ও স্বাদবর্ধক হিসেবে কাজ করত, যা আধুনিক পেস্টের সক্রিয় উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইতিহাসবিদ ড. মুহাম্মদ রশিদ বলেন, “প্রাচীন সময়ে দাঁত পরিষ্কারের পদ্ধতি ছিল স্থানীয় উপাদানের প্রাপ্যতা ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের সমন্বয়।” দন্তচিকিৎসক ডা. শারমিনা হক যুক্তি দেন, “লবণ ও চুনের ঘর্ষণশক্তি ময়লা অপসারণে কার্যকর, তবে দীর্ঘমেয়াদে ইমেল ক্ষতি করতে পারে।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঐতিহ্যিক পদ্ধতি নিয়ে কৌতূহল ও নস্টালজিয়া দেখা যায়; সামাজিক মিডিয়ায় পুরনো রেসিপি শেয়ার করা হচ্ছে এবং কিছু গ্রামাঞ্চলে এখনও এই পদ্ধতি প্রচলিত। তবে আধুনিক পেস্টের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যিক পদ্ধতির ব্যবহার কমে যাচ্ছে।
সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আধুনিক দন্তস্বাস্থ্যের প্রচারে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে, যার মধ্যে স্কুলে দন্তস্বাস্থ্য শিক্ষা ও সাশ্রয়ী দন্ত পরিষ্কারের পণ্য সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত। গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ দন্ত গবেষণা কেন্দ্র প্রাচীন ঘর্ষণশক্তি সম্পন্ন উপাদান ও আধুনিক পেস্টের তুলনা করে নতুন হাইব্রিড পণ্য উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে ঐতিহ্যিক উপাদানের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজন হবে। এভাবে অতীতের জ্ঞানকে আধুনিক বিজ্ঞান সঙ্গে একত্রিত করে দেশের দন্তস্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।