তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালার শীর্ষে এক অনন্য দৃশ্যাবলি উপভোগের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ পর্যটন অভিযান আয়োজন করা হয়। এই অভিযানটি স্থানীয় পর্যটন সংস্থা ও গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে প্রায় দুইশো জনসাধারণ, স্থানীয় গাইড এবং গবেষক অংশগ্রহণ করেন। তৎকালীন আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার শীর্ষে সূর্যোদয়ের সোনালী আলোতে পর্বতমালার সাদা চূড়া উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর উচ্ছ্বাস ও গর্বের সঞ্চার ঘটায়। এই মুহূর্তটি দেশের পর্যটন ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা, যা ২৯৬৩ মিটার উচ্চতায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শীর্ষ, পূর্বে কেবলমাত্র সীমিত সংখ্যক অভিযাত্রী ও গবেষকেরই প্রবেশাধিকার ছিল। কঠিন ভূখণ্ড, অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থা এবং মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে পর্যটকদের জন্য এটি একটি দূরবর্তী স্বপ্নের মতো রয়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারী পর্যটন নীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই শীর্ষে পৌঁছানোর পথ ধীরে ধীরে সুগম হচ্ছে। তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্যন্ত নতুন রোড, হাইকিং ট্রেইল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে।
অভিযানের সময় গাইড শ্রীমতি রেহানা বেগম উল্লেখ করেন, "এই শীর্ষে পৌঁছানো শুধু শারীরিক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি গর্বের প্রকাশ।" স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদেরও এই উদ্যোগে বড় আশা রয়েছে, কারণ তারা প্রত্যাশা করেন যে পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উন্নতি ঘটবে। তদুপরি, পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধি জানান, "পর্যটনকে টেকসইভাবে পরিচালনা করা হলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করে স্থানীয় জনগণের জীবনের মানোন্নয়ন সম্ভব।" এইসব মন্তব্যগুলো দেশের পর্যটন নীতির সঠিক দিকনির্দেশনা ও জনসাধারণের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে।
অধিকাংশ সরকারী সংস্থা এখনই কাঞ্চনজঙ্ঘা অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের ত্বরান্বিত পরিকল্পনা কার্যকর করছে। পরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন রোড নির্মাণ, হাইকিং ট্রেইল চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি সেবা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, পর্যটন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ও প্রচারাভিযানের মাধ্যমে কাঞ্চনজঙ্ঘার অনন্য সৌন্দর্যকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলকে ইকো-ট্যুরিজমের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতীয় গর্বের সমন্বয় সাধন করা হবে।