হরমুজ প্রণালিতে গতকাল সন্ধ্যায় একটি মাইন বিস্ফোরণের ফলে চারটি তেলবাহী জাহাজে তীব্র আগুন লেগে যায়। ঘটনাস্থলটি ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। বিস্ফোরণের সময় জাহাজগুলো অনুমোদনহীন পথে চলছিল বলে জানা যায়, ফলে তেল রূপে সঞ্চিত পণ্য দ্রুত জ্বলন্ত অবস্থায় সমুদ্রের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনা তেল সরবরাহের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকির দিক থেকে তাত্ক্ষণিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন থেকে ইরান ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে এই পথে মাইন স্থাপন ও অপসারণের অভিযোগ উঠে আসছে, বিশেষত অনুমোদনহীন নৌচলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে। ইরান রেভলিউশনারি গার্ডের সামুদ্রিক শাখা (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে, মাইনগুলো অনুমোদনহীন পথে রাখা হয়েছিল এবং সেগুলোর দায়িত্ব জাহাজের মালিক ও নাবিকদের ওপর। পূর্বে একই রুটে কয়েকটি ছোট আকারের দুর্ঘটনা ঘটলেও, এই মাত্রার ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণ প্রথমবারের মতো দেখা গেছে।
আইআরজিসি ঘটনাস্থলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে ত্যাগ করায় সহায়তা করে এবং আগুন নিভাতে বিশেষ দল পাঠায়। জাহাজের মালিক সংস্থা ঘটনাটিকে “অনুমোদনহীন নেভিগেশন ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করে দায়িত্ব স্বীকার করেছে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশ সংস্থা তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তেল রপ্তানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলোর বাজারে তেল মূল্যের অস্থিরতা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্কতা জানিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ইরানীয় সমুদ্র মন্ত্রণালয় একটি বিস্তৃত তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুমোদনহীন পথে নৌচলাচল রোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করবে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা ও পার্শ্ববর্তী দেশের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে মাইন অপসারণ ও নিরাপদ নেভিগেশন রুট পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা মানদণ্ড শক্তিশালী করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে এবং জাহাজের মালিকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।