পিরোজপুরে মানিক পশারীর অচেনা মৃত্যুর পরপরই মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। মানিক পশারী, যিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাবি করতেন, তার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য বোধ করেছে। কমিটি গঠন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী মিডিয়া ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব অনুভব করেছে এবং তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।
মানিক পশারীর মৃত্যু ঘটার পূর্বে তিনি পিরোজপুরের এক গ্রামাঞ্চলে কয়েকটি রাজনৈতিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবং তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। পূর্বে একই ধরনের দাবি করা কয়েকজনের সনদ যাচাই না হওয়ায় এই মামলাটির পটভূমি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব, কমিটি গঠন করার আগে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল নথি, সনদ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা যায়।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিচারিক বিশ্লেষক, মানবাধিকার কর্মী এবং স্বাধীন সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা মানিক পশারীর পরিবার, প্রতিবেশী ও সাক্ষীদের সঙ্গে আলাপ করে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। পরিবার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে, আর স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোও এই ঘটনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
কমিটি এখন পর্যন্ত প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শেষ করে তদন্তের পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। মন্ত্রণালয় কমিটিকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ না হয়ে ন্যায়সঙ্গত ফলাফল বের হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনো অবৈধ কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং মুক্তিযোদ্ধা সনদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা লক্ষ্য করা হচ্ছে।