টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল বারী (উপনাম রুবেল চৌধুরী) ফেসবুকের মাধ্যমে ‘আমার মনে কষ্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীতি‑নির্দেশনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগের দাবি তোলেন। পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সখীপুর উপজেলার যুবদল শাখা কর্তৃক রফিকুল বারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং তাকে বহিষ্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি স্থানীয় যুব সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়াসের অংশ হিসেবে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি প্রতিফলন। গত বছর থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অপারেশন জনমতকে বিভক্ত করেছে। একই সঙ্গে, যুবদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত মতামতকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে। পূর্বে অনুরূপ ক্ষেত্রে যুবদলের সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়।
রফিকুল বারীর পোস্টের পর যুবদল শাখা প্রধানের মাধ্যমে একটি ব্যাখ্যামূলক নোট প্রকাশ করা হয়, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত মতামত সংগঠনের নীতি‑বিরোধী হলে তা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা হবে। রফিকুল বারী নিজে পোস্টের পর ক্ষমা চেয়ে একটি ব্যক্তিগত বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বলেন যে তার মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং সংগঠনের কোনো নীতি লঙ্ঘন করার উদ্দেশ্য ছিল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ বিভাগে জানানো হয়েছে যে পোস্টটি আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাসঙ্গিক নয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সখীপুর উপজেলা যুবদল শাখা রফিকুল বারীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ হিসেবে জানায় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অবৈধ পোস্টের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি আরোপের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পোস্টের বিষয়বস্তু যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। যুবদল জাতীয় স্তরে এই ঘটনার পর্যালোচনা করে সংগঠনের সদস্যদের সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করার পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর প্রকাশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।