রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রাণকেন্দ্রসহ চট্টগ্রামের বিস্তৃত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যা শহরের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে বিপর্যস্ত করেছে। বাংলাদেশ পলোজিটিক্যাল লিমিটেড (পিএলসি) জানিয়েছে, ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চলের বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে চট্টগ্রামের একাংশেও বিদ্যুৎ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপর্যয় প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা শুরু হয়েছে। শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ চাহিদা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এই সংকটের প্রভাব সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জীবনেই গভীরভাবে পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে পিএলসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রিডে অস্থিরতা ও চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর পূর্বাঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে বিদ্যুৎ চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গুলশান ও মতিঝিলের মতো এলাকাগুলোতে আধুনিক অফিস ভবন, হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ নির্ভর, তাই এখানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দ্রুতই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও লজিস্টিক সমস্যার সৃষ্টি করে। চট্টগ্রাম, যেখানে দেশের প্রধান বন্দর অবস্থিত, সেখানেও বিদ্যুৎ সংকট বন্দর কার্যক্রম ও শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রভাবে শহরের নাগরিকদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। অফিস-কর্মকর্তারা কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মঘণ্টা ঘটার আশঙ্কা উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, এমন বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকটের পূর্বাভাস না দেওয়া এবং দ্রুত প্রতিকার না নেওয়ায় তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। জনজীবনে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষীদের আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য প্রকৌশলী ও কর্মীদের দল কাজ করছে এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হচ্ছে। পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, গ্রিডের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে কর্তৃপক্ষ গ্রিডের ক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য। কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।