সিলগালা ভেঙে লালন একাডেমি ভবনের চতুর্থ তলায় লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স দ্বিতীয়বার উন্মোচিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা, স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। তিন ঘণ্টা ধরে চলা গণনা প্রক্রিয়ায় দানবাক্সে জমা হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়, যা স্থানীয় সমাজের দাতব্য উদ্যোগের প্রতি আস্থা ও সমর্থনকে পুনরায় নিশ্চিত করে। এই উন্মোচন অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৃহৎ আগ্রহের সাথে গ্রহণ করা হয় এবং দাতব্য কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
দ্বিতীয় উন্মোচনের পূর্বে, প্রথমবারের দানবাক্স ২০২২ সালের শীতকালে খোলা হয়েছিল, যেখানে প্রায় এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। লালন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখতে, এবং দানবাক্সটি মূলত দরিদ্র পরিবার, রোগী এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য গৃহীত হয়। প্রথম উন্মোচনের পর থেকে দানবাক্সে নিয়মিত দান সংগ্রহের প্রচার চালানো হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এই পটভূমি দানবাক্সের দ্বিতীয় উন্মোচনকে আরও গুরুত্ব দেয়, কারণ এটি পূর্বের সাফল্যের ধারাবাহিকতা এবং সম্প্রদায়ের সংহতির প্রতীক।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, "দানবাক্সের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা এই গণনা প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করেছি।" লালন একাডেমি প্রধান শিক্ষক মেহেদি হাসানও যোগ করেন, "এই অর্থের মাধ্যমে আমরা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি সহায়তা প্রদান করব।" উপস্থিত ধর্মীয় নেতারা দাতব্য কাজের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বললেন, "এমন উদ্যোগ সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করে এবং দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করে।" সাধারণ জনগণও দানবাক্সের স্বচ্ছতা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, অনেকেই ভবিষ্যতে আরও দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
উন্মোচনের পর, জেলা প্রশাসন দানবাক্সের অর্থের ব্যবহার সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আর্থিক অডিট পরিচালনা করবে। লালন একাডেমি একটি স্বতন্ত্র তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেছে, যা সংগ্রহিত অর্থের বণ্টন, ব্যবহার পরিকল্পনা এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে দানবাক্সের উন্মোচন প্রক্রিয়াকে আরও ডিজিটালাইজ করা হবে, যাতে অনলাইন দান এবং রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সম্ভব হয়। এই পদক্ষেপগুলি দানবাক্সের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে দাতাদের আস্থা জোরদার করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দাতব্য কার্যক্রমের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।