সরকারি নীতিমালায় ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান ধরে রাখার দাবি তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আইজিপির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, আইজিপির এমন বক্তব্য সরকারের নির্ধারিত নীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মৌলিক নীতিমালা থেকে বিচ্যুত। মন্ত্রীর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি প্রমাণ করে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দূরত্ব বিদ্যমান।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ক্রসফায়ারের ঘটনা বৃদ্ধির প্রবণতা। আইজিপির দাবি ছিল, অপরাধ দমনে বাধা সৃষ্টি করলে বাহিনীর সদস্যদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তাই ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি প্রযোজ্য নয়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অভিমত হলো, যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের আত্মরক্ষার অধিকার থাকলেও তা কখনোই অনিয়মিত গুলিবিদ্ধের জয়যুক্ত হতে পারে না। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, ক্রসফায়ার প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে অপরাধ দমনের চাপ ও ঝুঁকি বিবেচনায় আইজিপির বক্তব্যই বাস্তবসম্মত ছিল। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ক্রসফায়ারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জনসাধারণের মধ্যেও এই বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ক্রসফায়ার প্রতিরোধে নতুন করে নির্দেশনা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যা ক্রসফায়ারের কারণগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকরী সমাধান প্রণয়ন করবে। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ক্রসফায়ারের ঘটনা হ্রাসে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণে আত্মরক্ষা ও ক্রসফায়ার প্রতিরোধ বিষয়ক নতুন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে অপরাধ দমনের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।