সম্প্রতি ইনানী ও কলাতলীসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সমুদ্রে গোসলে নেমেও পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শহিদ সুভাষ হলে জেলা প্রশাসন কক্সবাজারের আয়োজনে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ মালিক-ব্যবস্থাপক, সমিতি ও অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জনাব মো: আ: মান্নান। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুর রহমান কাজল ও অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। আরও ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কউক সচিব, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিপিডিবি, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা। সঙ্গে ছিলেন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ।
সভার শুরুতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা, ফায়ার সেফটি, অবকাঠামো ও পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। কর্মকর্তাগণের পাশাপাশি হোটেল মোটেল রিসোর্ট এর মালিক/প্রতিনিধিগণ তাদের বক্তব্যে নানাবিধ সমস্যা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ফায়ার লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ সংস্কার, অভিভাবক ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের রুম বরাদ্দ নিষিদ্ধকরণ এবং সিসিটিভি ও গেস্ট রেজিস্টার সংরক্ষণও বাধ্যতামূলক হবে। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল' চালু হবে। পাটুয়ারটেক-হিমছড়ি এলাকায় নতুন ফায়ার স্টেশনের প্রস্তাব উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে। সৈকতে লাইফগার্ড, ফ্লাডলাইট ও সিসিটিভি জোরদার করা হবে এবং ইসিএ সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে যাবে।