গাজীপুরের সদর উপজেলায় গৃহশিক্ষা মাদ্রাসা ‘ইলম‑ই‑নবী’র পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অপহরণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারী ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীটি সম্প্রতি মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর, শিক্ষকের সহকারী ও পরিচালকের সমন্বয়ে তাকে গোপনভাবে গৃহে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের পরপরই ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দুইজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত করেছে।
মাদ্রাসাটি গাজীপুরের অন্যতম পুরনো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী দশক ধরে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদ্রাসা পরিচালনায় কিছু অস্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যদিও সেগুলো সর্বজনীনভাবে প্রকাশিত হয়নি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের প্রতি যৌন হয়রানি ও অপহরণের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা না থাকলে সৃষ্ট ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগের পর, মাদ্রাসার পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রশিদ উভয়েই নিন্দা ও অস্বীকারের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা কখনোই কোনো শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা লঙ্ঘন করিনি; অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।” অপরদিকে, অপরাধের শিকার পরিবারের প্রধানা রেহানা বেগম জানান, “আমার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল; তাকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।” স্থানীয় সমাজের নেতারা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীও ঘটনাটিকে নিন্দা করে, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, “প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণের অভাব থাকলেও, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
গাজীপুরের থানা প্রধানের নির্দেশে, পুলিশ দ্রুত FIR দায়ের করে এবং সংশ্লিষ্ট দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলখানায় পাঠিয়েছে। বর্তমানে, তদন্ত দল গোপন ক্যামেরা রেকর্ড, ফোন রেকর্ড ও সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহের মাধ্যমে প্রমাণ সংকলন করছে। বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন, মাদ্রাসার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন ও অপহরণ রোধে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত তদারকি, শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য গোপনীয় হটলাইন স্থাপন। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।