দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের হামে আক্রান্ত শিশুদের জটিল নিউমোনিয়া রোগের কারণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে, ঢাকা শহরের শিশু হাসপাতালগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে মাত্রই ৩৫০ টিরও বেশি শিশুকে বিশেষ শ্বাসযন্ত্রের সাপোর্ট ও অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি প্রদান করা হয়েছে। রোগের তীব্রতা, বয়সের সীমাবদ্ধতা এবং দূরবর্তী এলাকার স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার অভাব একত্রে এই পরিস্থিতিকে সংকটজনক করে তুলেছে।
নিউমোনিয়া দেশের শীর্ষ রোগের তালিকায় ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে, বিশেষ করে শীতকালে হামের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকায় পর্যাপ্ত শ্বাসযন্ত্রের রেসপিরেটরি সাপোর্ট ইউনিটের অভাব, প্রশিক্ষিত পেডিয়াট্রিক রেসপিরেটরি থেরাপিস্টের কমতি এবং জরুরি রেফারেল সিস্টেমের দুর্বলতা রোগীর অবস্থাকে দ্রুত জটিল করে তুলেছে। অতিরিক্তভাবে, মৌসুমী বায়ু দূষণ ও অল্প পুষ্টি রোগের প্রবণতা বাড়িয়ে তুলেছে, যা হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার মারাত্মকতা বৃদ্ধি করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ড. রেজা হোসেনের মতে, “দূরবর্তী অঞ্চলের শিশুদের সঠিক ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” ঢাকা শিশু হাসপাতালের প্রধান ড. সুমাইয়া রায় উল্লেখ করেন, “অধিকাংশ রোগী শ্বাসযন্ত্রের অস্বাভাবিক অবস্থা ও অক্সিজেনের ঘাটতি নিয়ে আসছে, তাই তৎক্ষণাৎ ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হচ্ছে।” স্থানীয় এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী রোগীর পরিবহন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে, আর অভিভাবকরা চিকিৎসার ফলাফল নিয়ে আশাবাদী হলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সরকার বর্তমানে শিশু হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক আইসিইউ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত বেড ও রেসপিরেটরি সাপোর্ট যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং দূরবর্তী অঞ্চলে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগামী ত্রৈমাসিকে প্রত্যন্ত জেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পেডিয়াট্রিক রেসপিরেটরি থেরাপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করবে এবং জরুরি রেফারেল নেটওয়ার্ককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতা মোকাবেলায় প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও দ্রুত হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।