১৯ নভেম্বর ঢাকা উচ্চ আদালতে চিত্রনায়িকা শিমু হত্যাকাণ্ডের সাফাই সাক্ষ্য শোনানো হয়। মামলায় প্রধান সাক্ষী হিসেবে শিমুর স্বামী, অভিনেতা রাহুল, উপস্থিত হয়ে তার স্ত্রীর মৃত্যুর সময়ের ঘটনাবলি বিশদভাবে বর্ণনা করেন। রাহুলের বর্ণনা অনুযায়ী শিমু রাত ১০ টার পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে এক অজানা গাড়িতে চড়ে গিয়েছিলেন, যা পরে অপরাধস্থলে পৌঁছানোর পথে ধরা পড়ে। সাক্ষীর কথায় উল্লেখিত সময়সীমা, গাড়ির রঙ এবং চালকের বর্ণনা তদন্তকারী দলকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সরবরাহ করে। আদালত এই সাক্ষ্যকে রেকর্ড করে পরবর্তী তদন্তের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে।
শিমু ২৪ মে ২০২৩ রাতে তার বাসায় অচেনা গুলির গুলিতে নিহত হন, যা দেশের চলচ্চিত্র জগতকে শোকাহত করে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে গুলি চিহ্নিত করা গুলি ৯মি.মি. ক্যালিবারের এবং গুলি ছোড়া বন্দুকের রেজিস্টার্ড মালিক অজানা রয়ে যায়। পুলিশ দ্রুত সন্দেহভাজনদের তালিকায় শিমুর নিকট পরিচিত কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে প্রমাণের অভাবে কোনো গ্রেফতার হয়নি। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রমাণের ঘাটতি এবং সাক্ষীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই পটভূমিতে সাফাই সাক্ষ্যটি তদন্তের দিক পরিবর্তন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
শিমুর স্বামী রাহুল সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন যে শিমু হত্যার রাতে তিনি একাধিক ফোন কল পেয়েছিলেন, তবে কলের উৎস সনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ প্রধানের মতে, রাহুলের বর্ণনা তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুসন্ধান করা হবে। শিমুর পরিবার এই সাক্ষ্যকে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত অপরাধীর গ্রেফতার দাবি জানিয়েছে। আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে সাফাই সাক্ষ্য আদালতে প্রমাণের ওজন বাড়াবে, তবে তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ফরেনসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। সাধারণ জনগণ সামাজিক মাধ্যমে মামলায় গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে, ন্যায়বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে।
অধিকর্তা এখন পর্যন্ত শিমু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এবং সাফাই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত সাক্ষী শোনার আদেশ জারি করেছে এবং ফরেনসিক দলকে গুলি এবং গাড়ির অংশ বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে বলেছে। সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মামলার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে শিমু হত্যার দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।