ঢাকার আফতাবনগর ও বনশ্রীর সংযোগকারী পদচারী‑সেতু আজ ডিএনসিসি (ঢাকা নগর পরিষেবা কর্পোরেশন) প্রশাসকের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সেতুটি ১.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের, দুই দিকের পায়ে আধুনিক রেলিং ও আলোকসজ্জা সমন্বিত, যা পাদচারণকারী গাড়ি ও সাইকেল চালকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পথ সরবরাহ করবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা সেতুর ব্যবহারিক সুবিধা, যানজট হ্রাস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচলে সৃষ্ট ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন, যা নগর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
এই সেতুর নির্মাণের পেছনে দীর্ঘদিনের নগর অবকাঠামো ঘাটতি ও অপ্রতুল সেতু সংযোগের সমস্যার সমাধান করার ইচ্ছা ছিল মূল চালিকাশক্তি। পূর্বে আফতাবনগর ও বনশ্রীর মধ্যে সরাসরি পথের অভাবে বাসিন্দারা দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছাতেন, ফলে সময় ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পেত। সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ২০১৯ সালে নগর পরিষেবা কর্পোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুমোদিত হয়, এবং তদুপরি, স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যার সমাধানেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, “নর্দমার মধ্যে লাল গোলাপের গাছ লাগিয়ে লাভ হবে না; প্রথমে আমাদের উচিত নালার পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, তারপরই সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা।” তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতা করে জানান, নালার অবরোধ দূর করা এবং সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে শহরের বৃষ্টির পানির বন্যা রোধ করা সম্ভব হবে। উপস্থিতরা প্রশাসকের এই দৃষ্টিভঙ্গি স্বাগত জানিয়ে, নালার পরিষ্কারের জন্য স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের প্রস্তাব দেন এবং ভবিষ্যতে আরও সবুজায়ন প্রকল্পের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
ডিএনসিসি প্রশাসন ইতিমধ্যে নালার পরিষ্কারের জন্য বিশেষ টিম গঠন করেছে এবং আগামী মাসে বৃহৎ পরিসরে পরিষ্কারের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, সেতু উদ্বোধনের পরপরই নিকটবর্তী এলাকায় রোড মেরামত, আলো ব্যবস্থা এবং সাইকেল লেনের উন্নয়ন কাজ চালু করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে, এই উদ্যোগগুলোকে ভিত্তি করে নগর পরিকল্পনায় আরও সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পায়।