সাম্প্রতিককালে সরকার মুদ্রা ছাপার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে অর্থ সরবরাহ বাড়িয়ে বেকারত্ব কমানো ও বিনিয়োগ উত্সাহিত করার পরিকল্পনা করছেন। তবে, মুদ্রাস্ফীতির দ্রুত বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের হ্রাসের কারণে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
মুদ্রা ছাপার ধারণা প্রথমে ১৯৮০‑এর দশকে দেখা গিয়েছিল, কিন্তু তখনও তা সীমিত ছিল। সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশেও মুদ্রা সরবরাহের চাহিদা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপলে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বাড়তে পারে।
অর্থমন্ত্রী মি. হক বলেছেন, ‘মুদ্রা ছাপা একটি টুল, কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে বিপর্যয় ঘটতে পারে।’ এক অর্থনীতিবিদ, ড. সুলতান, বলেন, ‘মুদ্রা ছাপা হলে রপ্তানি কমে যাবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পেতে পারে।’ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের ভয় প্রকাশ করছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে মুদ্রা নীতি কঠোর রাখছে এবং রিজার্ভের স্তর পর্যবেক্ষণ করছে। সরকার মুদ্রা ছাপার সিদ্ধান্ত নিলে তা প্রথমে সীমিত পরিমাণে হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা বাড়ানো হবে এবং রপ্তানি উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করা হবে।