সম্প্রতি সামাজিক মিডিয়ায় গায়ে পা লাগলে সালাম করা বা সমতল ভঙ্গিতে সালাম জানানো প্রথা নিয়ে তীব্র আলোচনা দেখা দিয়েছে। বহু লোককে এটি শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে ইসলামে এমন কোনো শারীরিক ভঙ্গি বা আচরণকে বাধ্যতামূলক বা অনুমোদিত বলে কোনো স্পষ্ট বিধান আছে কি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই আলোচনার মূল কারণ হল, কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বা পারিবারিক সমাবেশে গায়ে পা লাগিয়ে সালাম জানানো দেখা যায়, যা কিছু মুসলমানকে অস্বস্তিকর করে তুলছে এবং ধর্মীয় শুদ্ধতার দিক থেকে এর বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
গায়ে পা লাগিয়ে সালাম করার প্রথা মূলত স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতির সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে শারীরিক নৈমিত্তিকতা প্রকাশের জন্য এই ধরনের ভঙ্গি গ্রহণ করা হতো, তবে ইসলামী শাস্ত্রে সরাসরি এমন কোনো উদাহরণ পাওয়া যায় না। হাদিসে সালামকে মুখে বা হাতে করে জানাতে বলা হয়েছে, আর শরীরের কোনো অংশে স্পর্শ করে সালাম জানানোকে অনুমোদন করা হয়নি। তদুপরি, ইসলামী ফিকহে শারীরিক সংস্পর্শের ক্ষেত্রে শালীনতা ও গোপনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা গায়ে পা লাগিয়ে সালাম জানানোকে অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
বিভিন্ন ধর্মীয় পণ্ডিত ও মুফতি এই বিষয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন। ঢাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর উল্লেখ করেন, “ইসলামে সালাম হল শুভেচ্ছা, যা মুখে বা হাতে করা উচিত; গায়ে পা লাগিয়ে সালাম করা কোনো প্রমাণিত বিধান নয় এবং এটি শালীনতার সীমা অতিক্রম করে।” অন্যদিকে, কিছু স্থানীয় ইমাম এই প্রথাকে সাংস্কৃতিক রীতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন, তবে তারা জোর দেন যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শারীরিক সংস্পর্শের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সাধারণ জনগণও এই আলোচনায় বিভক্ত; কেউ এটিকে ঐতিহ্যবাহী রীতি হিসেবে সমর্থন করেন, আবার অন্যরা ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য এ ধরনের প্রথা ত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন।
অধিকাংশ ধর্মীয় সংস্থা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি এখনো এই বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিচ্ছে না, তবে সরকারী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি ফতোয়া জারি করার পরিকল্পনা করেছে। ফতোয়ায় গায়ে পা লাগিয়ে সালাম করা অনুপযুক্ত বলে উল্লেখ করা হবে এবং মুসলমানদেরকে শালীনতা বজায় রেখে মুখে বা হাতে সালাম জানাতে উৎসাহিত করা হবে। ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা বলা হয়েছে, যাতে সমাজে শিষ্টাচার ও ধর্মীয় শুদ্ধতার সমন্বয় বজায় থাকে।