ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধনের কাজের জন্য দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে মোট ৩,৪৩০ জন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপটি শহরের দ্রুত নগরায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগবাহক মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে জরুরি চাহিদা পূরণে নেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত এলাকায় সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবে এবং মশা দমন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। এই উদ্যোগটি শহরের স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ঢাকা শহরে বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক এলাকায় আবর্জনা জমা হওয়া, রাস্তার ধুলো‑ধূম্রা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে মশা সংক্রমণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সিটি করপোরেশনগুলো পূর্বে অস্থায়ী কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভর করত। তবে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও কর্মী ঘাটতি দূর করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন একত্রে কাজ করে এই বৃহৎ নিয়োগ পরিকল্পনা গঠন করেছে।
নিয়োগের ঘোষণার পর সিটি করপোরেশনের প্রধান কর্মকর্তা ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা একাধিক সাক্ষাৎকারে মত প্রকাশ করেছেন। প্রধান কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, “নতুন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে আমরা পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পারব এবং মশা দমন কার্যক্রমে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে পারব।” অন্যদিকে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বলছেন, “দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় কর্মীদের জীবিকা উন্নত হবে এবং কাজের গুণগত মানও বৃদ্ধি পাবে।” সাধারণ নাগরিকদেরও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “শহরের রাস্তা এখন পরিষ্কার হবে, মশা কমে যাবে, আমাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।”
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রথম দফা কর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। প্রশিক্ষণে বর্জ্য সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি, পরিবেশবান্ধব নিষ্পত্তি, মশা দমন উপকরণ ব্যবহার এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিটি করপোরেশনগুলো ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করে কর্মীদের কাজের অগ্রগতি রিয়েল‑টাইমে পর্যবেক্ষণ করবে। ভবিষ্যতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা সম্প্রসারণ, পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র স্থাপন এবং মশা দমন ক্যাম্পেইন বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই শহুরে পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।