মঙ্গলবারের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট অথবা তাঁর বিরোধী জোটের কোনো একটিই পার্লামেন্টের ৩১০টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলস্বরূপ, গৃহীত ভোটের পরিসংখ্যান দেখায় যে একাধিক দলই ১৫৫‑১৬০ আসনের কাছাকাছি সীমায় আটকে আছে, যা সরকার গঠনকে অচলাবস্থায় ফেলেছে। নির্বাচনের তৎকালীন রাতেই বিরোধী জোটের প্রধান নেতারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করার দাবি তুলে ধরেন, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার একটি নতুন বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই প্রস্তাবটি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তীব্র আলোচনার সঞ্চার করে, কারণ এটি সংবিধানের ধারা ৭১(১)‑এর পরিবর্তন দাবি করে।
বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য জোট গঠন একটি প্রচলিত পদ্ধতি। তবে ২০২৪ সালের এই নির্বাচনে জোট‑বিরোধী পার্টিগুলোর ভোটের বণ্টন পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী জোট‑গঠনকে কঠিন করে তুলেছে। অতীতেও সরকার গঠনের জন্য কয়েকবার অস্থায়ী সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। সংবিধানের ধারা ৭১(১) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়; সরাসরি নির্বাচন প্রস্তাবটি প্রথমবারের মতো এই ধারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
বিরোধী জোটের প্রধান নেতা, ড. হাবিবুর রহমান, টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “যদি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া যায়, তবে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা উচিত।” অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার অফিসের মাধ্যমে জানিয়েছেন, “সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়াকে সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব। সরাসরি নির্বাচন সংবিধানিক পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব নয়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই দ্বিমত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং জনমতেও বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। ভোটারদের মধ্যে এই প্রস্তাবের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু নাগরিক সরাসরি নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক উন্নয়ন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অন্যরা পার্লামেন্টীয় পদ্ধতির পক্ষে মত পোষণ করছেন।
অবিলম্বে, নির্বাচন কমিশন একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার প্রস্তাবও উপস্থাপিত হয়েছে, যাতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আইনি কাঠামো তৈরি করা যায়। সরকার ও বিরোধী জোট উভয়ই এই কমিটির কাজের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাব পাস হলে জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে যদি সরাসরি নির্বাচন বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে সংবিধানিক স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য যথাযথ তদারকি প্রয়োজন হবে।