রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় বাস করা একাধিক ছাত্রীর জীবন এখন অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। গত ২২ অক্টোবর হঠাৎ করে বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে নোটিশ জারি করলেও ভাড়াটিয়া ছাত্রীরা এ বিষয়ে কোনো ধরনের পূর্বসূচনা বা যথাযথ নোটিশ পাননি। একজন প্রভাবিত ছাত্রী জানান, নোটিশ দেওয়ার সময় তিনি দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ২৬ তারিখ ঢাকায় ফিরে তিনি মাত্র একদিনও নিজের বাসায় থাকতে পারেননি। এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের ফলে ছাত্রীরা এখন নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে হতবাক হয়ে পড়েছেন।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের ভাড়া বাসার অস্থিরতা ও বাড়িওয়ালার একতরফা সিদ্ধান্ত। আজিমপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রীদের জন্য বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়িওয়ালাদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত নোটিশ দেওয়া এবং ভাড়া বাড়ানোর চাপ ছাত্রীদের জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে পূজা বা ছুটির মতো সময়গুলোতে ছাত্রীরা গ্রামে থাকলে বাড়িওয়ালারা সুযোগ নিয়ে হঠাৎ নোটিশ জারি করে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই প্রবণতা ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ছাত্রীরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনার স্বার্থে বাড়িওয়ালাদের উচিত ছিল যথাযথ সময়সীমা মেনে নোটিশ দেওয়া। হঠাৎ বাসা ছাড়তে বলায় ছাত্রীরা এখন নতুন বাসা খোঁজার হন্যে হয়ে পড়েছেন। রাজধানীর ভাড়া বাজারের তুলনামূলক দাম ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বাসা পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছেন। এই অস্থিরতা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ভাড়াটিয়া-বাড়িওয়ালা সম্পর্কিত আইন অনুযায়ী যথাযথ নোটিশ না দিয়ে বাসা ছাড়তে বলা অবৈধ। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে এই বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ভাড়া বাসার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও আইনগত নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি তোলা হয়েছে। ছাত্রীদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাসস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন জরুরি প্রয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।