গৃহে শিশুর মানসিক বিকাশকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আজ (তারিখ) জাতীয় স্তরে একটি নতুন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল শৈশবের প্রথম ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক পর্যবেক্ষণ ও সমর্থন নিশ্চিত করা, এবং অভিভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রদান করা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কর্মসূচির কাঠামো, প্রশিক্ষণ মডিউল এবং সহায়ক উপকরণ উপস্থাপন করা হয়। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ শিশুকে মানসিক বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে।
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি জাতীয় মনোযোগের পেছনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়ে চলা উদ্বেগের পরিসংখ্যান রয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের নিচের প্রায় ২০ শতাংশ শিশুরে মনোযোগের ঘাটতি, উদ্বেগ বা আচরণগত সমস্যার লক্ষণ দেখা গেছে, যা প্রাথমিক হস্তক্ষেপের অভাবে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাগত ও সামাজিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক গবেষণা দেখায় যে, শৈশবের প্রথম তিন বছর মানসিক বিকাশের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়, যেখানে পিতামাতার সঠিক যত্ন ও পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। এ কারণেই মন্ত্রণালয় পূর্বে চালু করা 'শিশু সুরক্ষা' ও 'প্রারম্ভিক শিক্ষা' প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে এই নতুন কর্মসূচি গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, 'শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে ভবিষ্যতে জাতীয় মানবসম্পদে ক্ষতি হবে'। শিশু মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রেহানা হক উল্লেখ করেন, 'প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পর্যবেক্ষণ ও পিতামাতার সচেতনতা বৃদ্ধি করলে অধিকাংশ সমস্যার প্রতিরোধ করা সম্ভব'। পাশাপাশি, স্থানীয় এনজিও 'শিশু উন্নয়ন সংস্থা'র সভাপতি আবদুল করিম জানান, 'আমরা ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা কর্মশালা চালু করেছি, তবে সরকারী সমর্থন পেলে কার্যক্রমের পরিধি বাড়বে'। অভিভাবকরা কর্মসূচির তথ্য পেয়ে আশাবাদী, তারা উল্লেখ করেন যে, পেশাদার নির্দেশনা পেলে সন্তানকে মানসিকভাবে সঠিকভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
প্রোগ্রামের বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬০টি জেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেছে এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করবে। এছাড়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিভাবকদের জন্য ভিডিও টিউটোরিয়াল, প্রশ্নোত্তর সেশন এবং মানসিক বিকাশের চেকলিস্ট সরবরাহ করা হবে। তদুপরি, ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ রিপোর্টের ভিত্তিতে নীতি সমন্বয় এবং অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, আগামী পাঁচ বছরে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের সূচককে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য স্থির করেছে।