চট্টগ্রাম শহরে গতিশীলতা বাড়ছে, কিন্তু সাথে সাথে বেড়েই চলেছে মোটরসাইকেল চুরির হার। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই মোটরসাইকেল চুরি করে ফেলার ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটছে, যা নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের পাশে বা বাজারের সামনে গাড়ি থামিয়ে মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য দোকানে বা অফিসে ঢুকলেই ফিরে এলে গাড়িটি আর পাওয়া যায় না। এই দ্রুতগতির চুরির ঘটনাগুলো মূলত শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা, পোর্ট সার্কেল, গুটিবাড়ি এবং আগারগাঁও এলাকায় ঘনঘন ঘটে। চোররা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে এবং তাদের কাছে রয়েছে উন্নতমানের চাবি খোলার যন্ত্রপাতি, যা দিয়ে তারা যেকোনো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের লক খুলে ফেলতে সক্ষম হয়।
এই চুরির ঘটনার পেছনে রয়েছে একটি সুপরিকল্পিত নেপথ্য, যা দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, চুরি করা মোটরসাইকেলগুলোকে সরাসরি বিক্রি না করে প্রথমে শহরের বিভিন্ন গোপন স্থানে মজুত রাখা হয়। এরপর এসব গাড়িগুলোকে ভেঙে ফেলে অংশাংশ করে বা সম্পূর্ণ অবস্থায়ই বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং অন্যান্য বিভাগের শহরে এসব চুরি করা গাড়িগুলোকে নতুন নম্বর ও কাগজপত্রের মাধ্যমে 'ক্লোন' করে বিক্রি করা হয়। এই জটিল নেটওয়ার্কের কারণে চুরি করা গাড়ি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা চোরদের আরও সাহসী করে তোলে।
সংশ্লিষ্ট বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশের তৎপরতা যথেষ্ট নয় এবং চোরদের চিহ্নিত করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। জনজীবনে এর প্রভাব গভীরভাবে পড়েছে, অনেক মানুষ এখন মোটরসাইকেল ব্যবহারে সংকোচ অনুভব করছেন এবং বিকল্প যানবাহনের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, ক্রেতারা এখন মোটরসাইকেল কেনার আগে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং চুরির ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি কিনতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন, যা শহরের মোটরসাইকেল বাজারকেও প্রভাবিত করেছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানান দেওয়া হয়েছে, এই চুরির ঘটনা রোধে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিভিন্ন থানায় অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে বেশ কয়েকটি চুরি করা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকজন চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চোরদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে আরও সময় ও উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে চুরি রোধে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি, মোটরসাইকেলে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক করা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার নিবন্ধন ব্যবস্থা কঠোর করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল চুরির হার কমে আসবে এবং নগরবাসী নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন।