প্রধানমন্ত্রী শ্রী ... চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হলেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হল জাপানের প্রধানমন্ত্রী শ্রী ... সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করা, যাতে দুই দেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা শক্তিশালী করা যায়। সফরের প্রথম দিনে টোকিওতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আলোচনা করেন। সফরের পুরোকাল জাপানের বৃহৎ শিল্প সংস্থা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিনিয়োগের সুযোগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই সফরকে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা ১৯৭২ সালে, এবং এরপর থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আজ শত কোটি ডলারেরও বেশি হয়েছে। পূর্বে ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী ... জাপানে ভ্রমণ করে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রকল্পে জাপানি প্রযুক্তি সংস্থার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম সরবরাহকারী এবং বিনিয়োগকারী, বিশেষত অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে চার দিনের সফরকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী ... জাপানের প্রধানমন্ত্রী শ্রী ... উভয় পক্ষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী ... জাপানের বৃহৎ কোম্পানি টোয়োটা, সনি ও মিতসুবিশি ইলেকট্রিকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে যৌথ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। জাপানি পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি স্টার্ট‑আপকে সমর্থন করার জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ পায়। দেশের বিভিন্ন ব্যবসা সমিতি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সফরকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সুযোগের দরজা হিসেবে স্বাগত জানায়, তবে কিছু বিশ্লেষক বিনিয়োগের শর্ত ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতাও প্রকাশ করেন।
সরকার সফরের পরপরই জাপান‑বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্কে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি ঋণ সুবিধা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুত প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করে সংসদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে। এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষ কর্মশালা ও ব্যবসা মেলার আয়োজন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে এই সফরকে জাপান‑বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা উভয়ই বৃদ্ধি করবে।