২০ অক্টোবর সকাল থেকে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান জনসাধারণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৯ বছর পর এই ঐতিহাসিক উদ্যানের দরজা আবার খুলে যাওয়ায় শহরের বাসিন্দা ও পর্যটক উভয়েই আনন্দের স্রোতে ভাসছেন। উদ্যানের প্রবেশমূল্য মাত্র দশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকের জন্য সুলভ এবং পরিবারিক ভ্রমণকে উৎসাহিত করবে। উদ্যানের পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত কার্যক্রমের সূচনা ঘোষিত হয়েছে, যা শহরের সবুজায়ন ও নাগরিক জীবনের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্যানের প্রধান গেটের সামনে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রবেশের সময়সূচি ও নিরাপত্তা বিধি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। শহরের বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা তৎক্ষণাৎ现场 প্রতিবেদন করে, উদ্যানের পুনরুজ্জীবনকে শহরের সংস্কৃতি ও পর্যটন নীতির একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ওসমানী উদ্যানের বন্ধের পেছনে মূলত ২০১৪ সালে শুরু হওয়া বৃহৎ পুনর্নির্মাণ কাজের ধারাবাহিকতা ছিল। পুরনো অবকাঠামোর অবনতি, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্যানের কিছু অংশে গাছপালার ক্ষতি দেখা গিয়েছিল, ফলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়। পরবর্তী নয় বছর ধরে পরিকল্পনা, তহবিল সংগ্রহ এবং নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্পটি সময়সূচি থেকে পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে নতুন বাজেট অনুমোদিত হওয়ার পর, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, প্যাভিলিয়ন ও শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার মাঠের নির্মাণ কাজ দ্রুততর হয় এবং ২০২৪ সালের শেষের দিকে উদ্যানটি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়।
উদ্যানের পুনরায় খোলার পর বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী ও নাগরিকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর পৌরসভা প্রধান বলেছেন, ‘ওসমানী উদ্যানের পুনরুজ্জীবন শহরের সবুজায়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হবে।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি উল্লেখ করেছেন, ‘উদ্যানের উন্মোচন আশেপাশের ক্যাফে ও হস্তশিল্পের বিক্রয় বাড়াবে, ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ পাশাপাশি, পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা এনজিওর প্রতিনিধিও উদ্যানের পরিবেশ-বান্ধব নকশা ও পুনর্নবীকরণকে প্রশংসা করে, ভবিষ্যতে আরও সবুজ প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। সাধারণ নাগরিকদেরও উদ্যানের সুলভ টিকিট মূল্যের প্রশংসা করা হয়েছে, যা পরিবারিক ভ্রমণকে সহজতর করেছে।
কর্তৃপক্ষ বর্তমানে উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সের দায়িত্বে রয়েছে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, গাছের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়া দেওয়া। পাশাপাশি, উদ্যানের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা ভিজিটরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হবে। আগামী মাসে উদ্যানের মধ্যে একটি ছোট পরিবেশ শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেখানে স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতি সংরক্ষণ ও টেকসই জীবনের বিষয়ে শিখতে পারবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ওসমানী উদ্যানকে শুধু বিনোদনস্থল নয়, বরং শিক্ষামূলক ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।