গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেশটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গঠনে জাতিসংঘকে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়, এ কথা তিনি আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়ন ফোরাম‑২০২৬’ এ উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সমাধানে জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক কাঠামোই একমাত্র কার্যকরী মঞ্চ। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেন, যা দেশের কূটনৈতিক নীতির নতুন দিক নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক নীতি দীর্ঘদিন থেকে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাকারী মিশনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে দেশটি বহুবার শান্তি রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা, উন্নয়ন প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অনুসরণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রী যে সমঝোতামূলক বিশ্ব গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তা দেশের বহুপাক্ষিক নীতির ধারাবাহিকতা ও উন্নয়নের স্বাভাবিক প্রবাহের অংশ হিসেবে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত প্রকাশ করেছেন। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কিছুজন সরকারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়, আবার কিছু বিশ্লেষক বলেন, জাতিসংঘের কাঠামোতে বাংলাদেশের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে দেশটির স্বর আরও শক্তিশালী হবে। মানবাধিকার সংস্থা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ গোষ্ঠীও এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে, উল্লেখ করে যে সমঝোতামূলক বিশ্ব গঠনে পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিহার্য। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; বহু নাগরিক সামাজিক মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার ইতিমধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরাম ও সমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা চালু করেছে। পরবর্তী মাসে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেশটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবে, যার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আর্থিক সহায়তা, শান্তি রক্ষাকারী মিশনের পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, সরকার বিদেশি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে জাতিসংঘের সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। ভবিষ্যতে এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা, মানবিক সহায়তা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।