ঢাকা শহরের একটি বাণিজ্যিক আদালতে চিত্রনাট্য নির্মাতা ও প্রযোজক সমিতি শিডিউল চেয়ে চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দাখিল করেছে। সমিতি দাবি করে যে, রাজ ধারাবাহিকভাবে নির্ধারিত শুটিং শিডিউল মেনে চলেননি, ফলে বহু চলচ্চিত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেষবারের মতো শিডিউল লঙ্ঘনের পরেও তিনি কোনো ব্যাখ্যা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেননি, ফলে সমিতি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনা চলচ্চিত্র শিল্পে শিডিউল শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে পুনরায় উজ্জ্বল করেছে।
শরীফুল রাজ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে সক্রিয় অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। তার ক্যারিয়ারে বহু বাণিজ্যিক হিট এবং সমালোচনামূলক প্রশংসা অর্জিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিডিউল মেনে না চলার অভিযোগে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে দুটি বড় প্রকল্পে শুটিং সময়সূচি একাধিকবার পরিবর্তন হওয়ায় প্রযোজক সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়েছে। এই ধরনের সমস্যার পেছনে শিল্পের দ্রুতগতির চাহিদা, প্রযোজক ও অভিনেতার মধ্যে চুক্তিগত অস্পষ্টতা এবং সময় ব্যবস্থাপনার অভাবকে মূল কারণ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়।
নোটিশের পর সমিতির সভাপতি মি. রাহুল চৌধুরী মিডিয়ার সামনে বলেন, “শিডিউল লঙ্ঘন কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, কর্মী ও টেকনিশিয়ানদের জীবনের ওপরও প্রভাব ফেলে।” অন্যদিকে, শরীফুল রাজের আইনজীবী শ্রীমতি সুমাইয়া দাশগুপ্ত উল্লেখ করেন, “অভিনেতা হিসেবে অনিবার্যভাবে কিছু অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, তবে আমরা যথাসময়ে সমিতিকে জানাতে প্রস্তুত ছিলাম।” সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র; কেউ অভিনেতার ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, আবার কেউ শিডিউল শৃঙ্খলা রক্ষার পক্ষে সশক্ত সমর্থন জানায়।
আইনি নোটিশের সঙ্গে সঙ্গে সমিতি আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি এবং ভবিষ্যতে শিডিউল লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের প্রস্তাব পেশ করেছে। শিল্প সমিতি ও গিল্ডগুলোও এই ঘটনার পর শিডিউল মেনে চলার জন্য নতুন চুক্তি মানদণ্ড প্রণয়ন করার কথা ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে চলচ্চিত্র উৎপাদনের সময়সূচি স্থিতিশীল হবে এবং শিল্পের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান পরিস্থিতি নজরে রেখে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা চলচ্চিত্র শিল্পের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার দিকে অগ্রসর হবে।