রোববার থেকে দেশের ছয়টি প্রধান রুটে পুরোনো বাস ব্যবহার করে নতুন সেবা চালু করা হবে বলে সরকার আজ রওনা করেছে। রঙিন চিহ্নিত করা বাসগুলোকে রঙে রঙে সজ্জিত করে রোডে নামানো হবে এবং সেবার সূচনা সকাল আটটায় নির্ধারিত। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল পুরনো যানবাহনের ব্যবহারিক আয়ু বৃদ্ধি করে পরিবহন খাতে ব্যয় কমানো এবং শহর‑গ্রাম সংযোগে ত্বরান্বিত করা। সংশ্লিষ্ট ছয়টি কোম্পানিকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা নিশ্চিত হবে। রোববারের প্রথম দিনেই এই সেবা চালু হওয়ায় নাগরিকদের চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা শহরের ভিড় কমাতে এবং গ্রামীণ এলাকায় পরিবহন সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া, পুরনো বাসের রঙিন রূপান্তর পরিবেশ সচেতনতায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক পরিবহন নীতি সমর্থনকারী সংস্থাগুলোও স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি দেশের টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
গত দশকে দেশের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে পুরনো বাসের ব্যবহার কমিয়ে নতুন ফ্লিট গড়ে তোলার প্রচেষ্টা বহুবার করা হয়েছে, তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কারণে পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপশহরী এলাকায় পুরনো বাসের ওপর নির্ভরতা বেশি, যেখানে নতুন যানবাহনের ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। পূর্বে চালু হওয়া কিছু পাইলট প্রকল্পে রঙিন বাসের মাধ্যমে সনাক্তকরণ সহজ করা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল, তবে সেগুলো সীমিত সময়ের জন্যই চলেছিল। এই নতুন ব্যবস্থা পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুরনো বাসকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পাশাপাশি রঙিন চিহ্নের মাধ্যমে রুট ও সময়সূচি স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমে এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ছয়টি পরিচালনাকারী কোম্পানির মুখপাত্ররা একত্রে জানিয়েছেন যে, রঙিন বাসগুলোকে সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব তাদের ওপর থাকবে এবং সময়সূচি মেনে চলা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ঢাকা শহরের মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিও উল্লেখ করেছেন যে, এই নতুন সেবা শহরের ট্রাফিক জ্যাম কমাতে সহায়তা করবে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহন সরবরাহ করবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; অনেকেই রঙিন বাসকে পরিচিতি ও নিরাপত্তার চিহ্ন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং রুটের সময়সূচি মেনে চলার জন্য আবেদন করেছেন। তবে কিছু নাগরিক পুরনো বাসের নিরাপত্তা ও আরাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা সমাধানের জন্য কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত সেবা মান নিশ্চিত করতে হবে।
অধিকর্তা সংস্থা এই সেবার সূচনা থেকে এক মাসের মধ্যে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেবে। পরিবহন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি ত্রৈমাসিক রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে, যেখানে বাসের রক্ষণাবেক্ষণ, যাত্রী সন্তুষ্টি এবং রুটের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হবে। ভবিষ্যতে সফল ফলাফল পাওয়া গেলে এই মডেলকে অন্যান্য রুটে প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের সর্বত্র পুরনো বাসের পুনর্ব্যবহার ও রঙিন চিহ্নের মাধ্যমে সেবা মান উন্নত করা যায়। এছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে বাসের ইঞ্জিনে আধুনিক টিউনিং ও ইমিশন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করার কাজও চলমান। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো দেশের টেকসই পরিবহন নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।