আজ সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে বাতিল করা হয়েছে ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন আইনটিতে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আইনে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।
এতে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করে পরিবার পরিচালনার সুযোগ এবং পাঁচ বছর পর গুম সনদ প্রদানের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনের আইনি পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইন ও বিচার বিভাগের উত্থাপিত ‘দ্যা ট্র্যান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন পাওয়ায় এখন থেকে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি নিজ জীবদ্দশায় ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। বিদ্যমান ১৮৮২ সালের আইনে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় দান করার পর দাতার নিজ জীবদ্দশায় তা ভোগ-ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা ছিল না।