বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার শোকস্মৃতি তার কন্যা আমাতুল্লাহ শারমিন ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।
শারমিন ২৭ অক্টোবর তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগময় পোস্টে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বরের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালের রায় প্রকাশের আগে একজনকে হত্যা করা হয় এবং জেলখানার চারপাশে পুলিশ, আর্মি ও স্পেশাল স্কোয়াড উপস্থিত ছিল।
শিকারের পরিবারকে লাশ হস্তান্তর করা হয়নি; বরং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা কুড়াল দিয়ে আঘাত হানেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছেন।
সেই দিন ঢাকা থেকে ফরিদপুরের সব রুট বন্ধ ছিল, নদী পার হওয়ার জন্য ফেরি বন্ধ করা হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে কয়েকজন আগে পৌঁছানো লোকেরই ৩০ মিনিটের মধ্যে জানাজা শেষ করে দাফন করা হয়, আর পুরো এলাকা পুলিশ ও র্যাবের ঘিরে থাকে।
দাফনের সময়ই পুলিশের বাউন্ডারির বাইরে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে; তীব্র শীত, রাত ৩টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলছিল। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় রাজশাহী, যশোর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, খুলনা ইত্যাদি জেলাগুলোর মানুষ পায়ে পায়ে এসে, এমনকি মহিলারা খালি পায়ে কাদা পাড়িয়ে পৌঁছেছেন।
শারমিন উল্লেখ করেন, এখনও মানুষ আব্দুল কাদের মোল্লার কবরে গিয়ে দোয়া ও কান্না করেন, যেন তিনি খুবই কাছের কেউ। তিনি বলেন, "শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, যাকে মানুষ সম্মান করে, ভালোবাসে, তার জন্য সব বাধা উপেক্ষা করে মানুষ যায়।" তিনি রাজনৈতিক দল ও শিবিরের তুলনা করে মানবিকতার ওপর জোর দেন।
পোস্টে শারমিন জানাজার ভিডিওও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখানো হয়েছে রাজাকার বলা লোকদেরও মোল্লার প্রতি মানুষের ভালোবাসা। তিনি উল্লেখ করেন, সেদিন সারা পৃথিবীতে প্রায় দশ লাখ মানুষ গায়েবানা জানাজা পড়েছেন।
শেষে তিনি আল্লাহকে স্মরণ করে বলেন, "আপনি যাকে চান রাজত্ব দেন, আর যাকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন; আপনার হাতে কল্যাণের ক্ষমতা আছে।"