দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, যা পূর্বে বঙ্গোপসাগরে তীব্র বায়ু ও প্রবল বৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করেছিল। বাংলাদেশ মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্ণব এখন দক্ষিণ‑পূর্ব দিক থেকে ধীরে ধীরে পশ্চিমে সরে গিয়ে বায়ু গতির গতি কমে ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার নিচে নেমে এসেছে। তবু, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের নিকটবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়ে গেছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি দেশের বাণিজ্যিক ও কৃষি কার্যক্রমে অল্প কিছু বিরতি সৃষ্টি করতে পারে, তবে তীব্র ক্ষতির আশঙ্কা বর্তমানে কমে গেছে।
অর্ণবের গঠন শুরু হয়েছিল বঙ্গোপসাগরের উত্তরে গরম সমুদ্রের তাপমাত্রা ও নিম্নচাপের সংমিশ্রণে, যা মৌসুমী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যুক্ত। পূর্বে এটি তীব্র বায়ু ও উচ্চ সাগর স্তরের তরঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণ‑পূর্ব দিক থেকে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল, ফলে পূর্বাঞ্চল ও উপকূলীয় শহরে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে সমুদ্রের তাপমাত্রা হ্রাস এবং বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে। এই ধরনের হ্রাস মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে ঘটতে পারে, তবে মেটেরিওলজিক্যাল বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, ঘূর্ণিঝড়ের পথ ও তীব্রতা পূর্বাভাসে সর্বদা অনিশ্চয়তা থাকে, তাই সতর্কতা অব্যাহত রাখা জরুরি।
মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের প্রধান কর্মকর্তা শ্রীমতি রেহানা বেগমের মতে, “অর্ণবের তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে, তবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এখনও উচ্চ। তাই উপকূলীয় ও নিম্নভূমি অঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়ি-গৃহের জানালা সুরক্ষিত রাখা, অতিরিক্ত পানি জমা না হওয়ার জন্য ড্রেনেজ পরিষ্কার করা এবং জরুরি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।” স্থানীয় প্রশাসনও জরুরি সতর্কতা জারি করেছে, এবং বন্যা প্রতিরোধে পাম্প ও স্যান্ডব্যাগ প্রস্তুত করা হয়েছে। কৃষকরা বৃষ্টির ফলে ধানক্ষেতের পানির স্তর বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তবে একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। পরিবহন খাতে, ঢাকা‑চট্টগ্রাম হাইওয়ে ও প্রধান রেললাইনগুলোতে সাময়িক বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ এখনো অর্ণবের অবশিষ্ট শক্তি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে। মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে আপডেট প্রদান করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করবে। সরকার জরুরি ত্রাণ কেন্দ্রগুলোকে সক্রিয় রাখবে, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড়ের পুনরাবির্ভাবের সম্ভাবনা বিবেচনা করে, মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের জন্য আধুনিক রাডার ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।