১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির ৪৮টি আসন পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো (জয়েন্ট লিস্ট এবং রা'আম) সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা তাদের নতুন সরকার গঠনের চাবিকাঠি হিসেবে আবির্ভূত করেছে।
'স্ট্যান্ডিং টুগেদার' নামক একটি গোষ্ঠীর আহ্বানে তেল আবিব, জেরুজালেম, হাইফা এবং হার্জলিয়াসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছেন। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় দুই হাজার মানুষ সমবেত হয়ে 'ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না' এবং 'বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে' স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আরব নাগরিকদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে পূর্ণ অংশীদার করতে হবে এবং নেতানিয়াহুকে সরাতে অবিলম্বে ইহুদি-আরব দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ কোয়ালিশন গঠন করতে হবে।
বিরোধী জোটের অংশীদার ও বামপন্থী দলের নেতা ইয়াইর গোলান প্রকাশ্যে ইহুদি-আরব জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আরব জোট 'জয়েন্ট লিস্ট'-এর প্রধান ইউসুফ জাবারিন এবং নেতা আহমাদ তিবি নেতানিয়াহু ও কট্টরপন্থী বেন-গভিরকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে বিরোধী শিবিরের নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করার তীব্র বিরোধিতা করে চলেছেন এবং বিরোধী জোটের প্রধান গাদি আইজেনকোটও শুরুতে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
বিক্ষোভের বিপরীতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার সমর্থকরা আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে 'নির্বাচন চুরির' অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন। হাবিমা স্কয়ারেই কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরের উপস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সমর্থকরা আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী স্লোগান দেন এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরবদের হাতে না দেওয়ার দাবি জানান।