ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেন্জামিন নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় তীব্র বিরোধের মুখে পড়েছেন। পার্লামেন্টে তার নেতৃত্বাধীন দলকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে কঠিন সংগ্রাম চলছে। গতকাল সন্ধ্যাবেলায় কেবিনেটের প্রধান মন্ত্রিসভা গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রতিবাদ এবং তীব্র বিতর্কের পরিসর দেখা গিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন দিক উন্মোচিত করেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিরোধী পার্টিগুলোর এই তীব্রতা পেছনে রয়েছে বহু বছর ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নীতি-সংক্রান্ত মতবিরোধ। গত নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর জোট সরকারকে সমর্থন করার জন্য কয়েকটি ছোট পার্টির সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তাদের মধ্যে শর্তাবলী ও নীতিগত পার্থক্যগুলো সমাধান করা সহজ হয়নি। বিশেষ করে নিরাপত্তা নীতি, বসতিবাদী সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের মূলবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতের সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় দেখা গিয়েছে যে, এমন জটিল শর্তাবলী পূরণে সময়সীমা অতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে যায়, ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
বিরোধী দলগুলোর নেতারা একাধিকবার সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং পার্লামেন্টে ভোটের আগে নীতি সমন্বয় ও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। প্রধান বিরোধী নেতা ডেভিড গ্যাল্যানের মতে, “যদি সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে।” অন্যদিকে, নেতানিয়াহু তার সমর্থকদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, নতুন সরকার গঠন দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ নাগরিক সরকার গঠনের দেরি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন, এবং তারা দ্রুত ও স্থিতিশীল সরকার গঠনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সরকার গঠনের আলোচনায় পার্লামেন্টের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা শর্তাবলী নির্ধারণ ও জোটের কাঠামো চূড়ান্ত করার দায়িত্বে থাকবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোও এই প্রক্রিয়ায় ন্যায়সঙ্গততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সরকার গঠনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে যদি পার্লামেন্টের ভোটে সমর্থন না পায়, তবে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনরায় গঠন করবে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকার গঠনের সফলতা বা ব্যর্থতা ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।