গত সপ্তাহে ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রধান বাজারে আপেলের দাম একাধিকবার বেড়ে ১২০০ টাকা/কেজি ছাড়িয়ে গেছে। গ্রাহকরা হতবাক হয়ে দোকানদারদের সাথে আলোচনা করছেন। আপেলের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বাজারে আপেল বিক্রেতারা বলছেন, গ্রীষ্মের তাপমাত্রা ও বৃষ্টির অভাবে ফসল কমে গেছে, ফলে বাজারে আপেলের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে ভোক্তারা আপেল কিনতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতি গ্রামীণ এলাকার কৃষকদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, কারণ তারা তাদের ফসলের মূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সাম্প্রতিক গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকায় আপেল গাছের ফলের গুণগত মান কমে গেছে। দ্বিতীয়ত, দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অভাবে ফসলের পরিমাণ কমে গেছে, যার ফলে বাজারে আপেলের সরবরাহ কমে গেছে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে আপেলের চাহিদা বাড়ায় দেশীয় আপেলের দাম বাড়ছে, কারণ আমদানিকৃত আপেলও বাজারে প্রবেশ করছে।
কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। আপেল চাষকারী কৃষকরা বলেন, “আমরা ফসলের ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর দাম বাড়লেও আমাদের আয় কমছে।” ভোক্তারা বলছেন, “এই দামে আপেল কিনতে পারা কঠিন, বিশেষ করে গরীব পরিবারগুলোর জন্য।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “বাজারে আপেলের দাম বাড়ার কারণ হলো সরবরাহ কমে যাওয়া ও চাহিদা বাড়া। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষি মন্ত্রণালয় আপেল চাষে সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তারা বলছেন, “আমরা কৃষকদের জন্য সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশক ও সার সরবরাহ করব।” এছাড়াও, সরকার আপেল আমদানির সীমা বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে আপেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বিভাগ মিলিতভাবে কাজ করবে।