রাজনৈতিক পালাবদলের পর একশ্রেণির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছায়াতলে নতুন করে আবারও সক্রিয় হয়েছে এই গোষ্ঠীগুলো, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি, হিংসাত্মক প্রতিবাদ এবং অবৈধ সমাবেশের রিপোর্ট পাওয়া যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, কিছু এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থতা দেখা যায়, ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই গোষ্ঠীগুলোর পুনরুজ্জীবন দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এই গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় সক্রিয়তা মূলত গত বছরের মাঝামাঝি নির্বাচনী ফলাফলের পর ঘটে। নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবশালী নেতা, যিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মঞ্চে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন, তার অনুকূলে গঠিত গোপন নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। পূর্বে এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন এবং আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ছিল। তবে, নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে তাদের পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং জনমত গঠন, নির্বাচনী প্রচার এবং জনসাধারণের মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গোষ্ঠীর নেতার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নয়। অন্যদিকে, ঢাকা শহরের পুলিশ প্রধানের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, “অবৈধ সমাবেশ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা দাবি করে যে সরকার দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই গোষ্ঠীর পুনরায় সক্রিয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভয় দেখা যাচ্ছে, বিশেষত যারা সরাসরি প্রভাবিত এলাকার বাসিন্দা।
অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও, সরকার এখনো ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর দ্রুত তদন্ত চালু হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ভবিষ্যতে, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সম্প্রদায়ভিত্তিক নিরাপত্তা মডেল এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।