কুড়িল বিশ্ব রোডের কুড়িল বাজার এলাকায় গত রাত্রি ২২শে জুলাই সন্ধ্যা পাঁচটায় একটি প্রাইভেট গাড়ি দ্রুতগতিতে চলার সময় পাদচরণে হোঁচট খেয়ে পথচারীকে আঘাত করে, ফলে তিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে না গিয়ে তৎক্ষণাৎ প্রাণ হারিয়ে ফেলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত পৌঁছায় এবং মৃতদেহটি স্থানীয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করে। মৃত ব্যক্তি মগবাজারের ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পথে ছিলেন এবং চিকিৎসা গ্রহণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে গাড়ির গতি প্রায় ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা অনুমান করা হচ্ছে এবং গাড়ির চালক ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ থেমে গিয়ে সাহায্যের জন্য হইচই করেন।
কুড়িল বিশ্ব রোডের এই অংশটি শহরের প্রধান সংযোগস্থলগুলোর একটি, যেখানে প্রতিদিন প্রচুর যানবাহন ও পথচারীর চলাচল ঘটে। বিশেষত সন্ধ্যা সময়ে গাড়ির গতি বৃদ্ধি পায় এবং পাদচরণে অস্বাভাবিক গর্তের উপস্থিতি গাড়ি চালকদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরই একই রোডে দু'টি সমান ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একটিতে গাড়ি চালকের অযত্নের কারণে একাধিক গায়ে আঘাত হয়। এই ধরনের ঘটনাগুলি স্থানীয় প্রশাসনের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বারবার উত্থাপিত হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর গাড়ির চালক এবং উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষী সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানায়। গাড়ির চালক, যিনি নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন, জানান তিনি গতি কমিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তবে হঠাৎ পাদচরণে গর্তের কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গিয়ে পথচারীকে আঘাত করেন। মৃতের পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে; তার বাবা-মা এবং বোন-ভাই সকলেই গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ পথচারীর জন্য সড়কের অবস্থা দ্রুত উন্নত করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদসূচক র্যালি আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ ফরেনসিক দল পাঠিয়ে গাড়ির গতি, ব্রেকের অবস্থা এবং পাদচরণে গর্তের মাত্রা পরীক্ষা করছে। গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে রাস্তায় অযত্নের অভিযোগে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তিনি গৃহবন্দি করা হয়েছে। সড়ক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পৌরসভার সমন্বয়ে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু করা হয়েছে; গর্তযুক্ত অংশটি পূর্ণভাবে মেরামত করা হবে এবং রোডের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সাইনেজ ও গতি সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে সড়ক নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণই পুনরাবৃত্তি দুর্ঘটনা রোধের মূল চাবিকাঠি।