দইগোটা গাছের নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শাখা সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বাগানে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই গাছের ডালপালায় গোলাপি-সাদা রঙের সূক্ষ্ম ফুল ফুটে এবং ফলের রঙ লালচে হয়, যা স্থানীয় উদ্ভিদবিদদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। গাছটি উচ্চতা প্রায় দুই থেকে তিন মিটার, পাতাগুলি ছোট, তীক্ষ্ণ এবং গাঢ় সবুজ রঙের, ফলে পুরো দৃশ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, এই রঙের সমন্বয় প্রাকৃতিক পরিবেশে বিরল এবং বায়োডাইভার্সিটি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই গাছের ফ্লোরাল প্যাটার্ন এবং ফলের রঙের পরিবর্তন জেনেটিক বৈচিত্র্যের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ গবেষণা কেন্দ্র ইতিমধ্যে এই গাছের নমুনা সংগ্রহ করে জেনেটিক বিশ্লেষণ শুরু করেছে। এ কারণে পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি প্রণয়নে এই গাছকে নতুন উদাহরণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
দইগোটা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম 'সেরিসিয়া গ্লোবুলা', যা মূলত উত্তর আমেরিকার উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে স্প্যানিশ উপনিবেশকারীরা এই গাছকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক বাগানে পরিচয় করিয়ে দেয়, ফলে তা দ্রুত ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশ এবং মায়ানমারসহ বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ আছে যে, স্প্যানিশ বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে গাছের বীজও বহন করা হতো, যা নতুন ভূমিতে রোপণ করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছটি স্থানীয় জলবায়ু ও মাটির সাথে মানিয়ে নেয় এবং তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফুল ও ফলের রঙে পরিবর্তন ঘটায়। এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদ অভিযোজনের একটি ক্লাসিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাগান বিজ্ঞানী ড. রাহিমুল হক উল্লেখ করেন, 'দইগোটা গাছের গোলাপি-সাদা ফুল এবং লালচে ফলের সংমিশ্রণ আমাদের দেশের উষ্ণমণ্ডলীয় পরিবেশে বিরল, যা উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।' স্থানীয় কৃষকরা এই গাছকে ornamental হিসেবে ব্যবহার করে এবং ফলের রঙের কারণে তা বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা পায়। তবে কিছু কৃষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, গাছের দ্রুত বিস্তার স্থানীয় প্রাকৃতিক উদ্ভিদকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগও গাছের ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা চালু করেছে, কারণ ফলটি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক মিডিয়ায় গাছের ছবি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়ে জনসাধারণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিবেশ ও বন বিভাগ গাছের সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচির মধ্যে গাছের বীজ সংরক্ষণ, জেনেটিক ডাটাবেস গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, গাছের অতিরিক্ত বিস্তার রোধে নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে রোপণ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গাছের ফলকে প্রাকৃতিক ঔষধি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বিবেচনা করে, গবেষণা সংস্থা গাছের ফার্মাকোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করবে। এ ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ গাছের বায়োডাইভার্সিটি রক্ষা এবং দেশের পরিবেশ নীতি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।