ঢাকা শহরের হাল ফ্যাশন হোটেল গর্বের সঙ্গে শারদীয় ভোজের আয়োজন করেছে, যেখানে মুগ পায়েসকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২০শে অক্টোবর সন্ধ্যা পাঁচটায় শুরু হওয়া এই ভোজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাদপ্রেমী ও রন্ধনশিল্পী সমাবেশিত হয়েছেন। মুগ পায়েস, যা ঐতিহ্যবাহী মুগ ডাল, চিনি, নারকেল ও এলাচের সমন্বয়ে তৈরি, শীতল শারদীয় ঋতুর সঙ্গে মানানসই একটি মিষ্টি হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। হোটেলের ব্যবস্থাপনা এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী খাবারের পুনরুজ্জীবন ও আধুনিক রন্ধনপ্রণালীর সংমিশ্রণ ঘটাতে চায়, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।
মুগ পায়েসের ঐতিহাসিক পটভূমি প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ রীতিতে নিহিত। শস্যের চাষাবাদে মুগের গুরুত্ব ও তার পুষ্টিকর গুণাবলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রাম্য পরিবারে প্রধান খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পায়েসের রূপে মুগের ব্যবহার প্রথমে রসিকদের হাতে উদ্ভাবিত হয়, যেখানে মুগের নরম গঠনকে দুধ, চিনি ও মশলার সঙ্গে মিশিয়ে মিষ্টি রূপে উপস্থাপন করা হয়। শারদীয় ঋতুতে ফলের সমৃদ্ধি ও শীতল বাতাসের সঙ্গে এই মিষ্টি স্বাদে একটি স্বতন্ত্র সাদৃশ্য তৈরি করে, যা বাংলার সংস্কৃতিতে শারদীয় ভোজের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।
ইভেন্টের আয়োজক হাল ফ্যাশন হোটেলের প্রধান শেফ শ্রীমতি রেহানা বললেন, “মুগ পায়েসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণকে আধুনিক রন্ধনশৈলীর সঙ্গে যুক্ত করে আমরা একটি নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চাই। এই ভোজের মাধ্যমে আমরা গ্রামীণ রন্ধনপ্রথার প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারি।” উপস্থিত অতিথি ও রন্ধনশিল্পীও এ বিষয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ মুগ পায়েসকে “শারদীয় ঋতুর সেরা সঙ্গী” বলে প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের ইভেন্ট তাদের সাংস্কৃতিক গর্ব বৃদ্ধি করে এবং তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।
সরকারি পর্যায়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ ভোজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মন্ত্রীর অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “জাতীয় পর্যটনকে সমৃদ্ধ করতে এবং দেশীয় রন্ধনশৈলীর প্রচারকে ত্বরান্বিত করতে আমরা এই ধরনের সাংস্কৃতিক ইভেন্টকে সমর্থন করব। হাল ফ্যাশন হোটেলের মুগ পায়েস ভোজকে একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুরূপ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।” এভাবে, মুগ পায়েসের পুনরুজ্জীবন কেবল রন্ধনশিল্পে নয়, বরং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।