আজ ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রামের একটি অভিজাত জিইসি কনভেনশন সেন্টারে এই বিশাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
আশির দশক থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সংগঠনের প্রাক্তন সাথী ও সদস্যদের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ গঠনে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এর আগে সকালে তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রাক্তন ছাত্রনেতারা তাঁকে উষ্ণ ও ফুলেল সংবর্ধনা জানান।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন-এর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার সাবেক ছাত্রনেতা, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও ওলামায়ে কেরাম সম্মেলনে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য: দেশ গঠনে নতুন প্রত্যয়- প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "ছাত্র আন্দোলন দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। আজ যারা প্রাক্তনের তালিকায় আছেন, তাঁদের জীবনের সোনালী সময়গুলো এই দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উৎসর্গ করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশে যে নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখানে আমাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রাক্তন সাথী ও সদস্যদের পেশাগত জীবনে সততা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে হবে। অতীতের সকল ত্যাগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে।"
আবেগঘন পুনর্মিলনী ও স্মৃতিচারণ-সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনে যোগ দেন। দীর্ঘ ১০, ২০ বা ৩০ বছর পর একে অপরকে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কোলাকুলি করেন এবং ছাত্রজীবনের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই কারানির্যাতন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজপথের কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অশ্রুসিক্ত হন।
বিশেষ অতিথিবৃন্দের আহ্বান-বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, "প্রাক্তন সাথী-সদস্যরা হলেন সংগঠনের প্রাণশক্তি। ছাত্রজীবন শেষ হলেও ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সমাজ পরিবর্তনের এই লড়াইয়ে আমৃত্যু সক্রিয় থাকতে হবে।"
আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "চট্টগ্রামের মাটি সব সময়ই আন্দোলনের উর্বর ক্ষেত্র। আজ এই বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিবেশেও আমাদের ভাইয়েরা তাঁদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।"
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও সমাপ্তি-সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম সম্মেলনে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত আগামী দিনে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে এবং প্রাক্তনদের এই মেধা ও শ্রমকে দেশ গঠনে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হবে।
সম্মেলনে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশ গঠনে ছাত্রজনতার আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। দুপুরের পর মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।