ভারতে নোয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত যৌথ বাণিজ্য বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার রপ্তানি বাধা দূর করা, অ্যান্টি‑ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং এলডিসি (কম উন্নত দেশ) উত্তরণের পরও শুল্কসুবিধা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশী প্রতিনিধিদল এই দাবি তুলে ধরেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার সূচনা চেয়েছে। এই দাবি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজার প্রবেশের বাধা কমানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা এবং পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘকালীন এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা উচ্চ। পূর্বে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাজারে রপ্তানি করা জুটো, চা, জুটো পণ্য এবং ইলেকট্রনিক্সের ওপর অ্যান্টি‑ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে রপ্তানিকারীদের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে গ্রেডেড দেশ হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভারতীয় শুল্ক নীতি পুনর্বিবেচনা করে কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করেছে, যা রপ্তানির খরচ বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রপ্তানি বাধা দূর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গড়ে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জয়ন্ত দত্ত বৈঠকে জানিয়েছেন, 'রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি‑ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার না হলে আমাদের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং কর্মসংস্থান সংকট বাড়বে'। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী রমেশ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, 'আমরা বাংলাদেশের উদ্বেগ শোনার জন্য প্রস্তুত, তবে শুল্ক নীতি আমাদের দেশের শিল্প সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়'। রপ্তানিকারী সংস্থা গুলির প্রতিনিধি ওয়ালমার্কেটের সভাপতি রশিদ হোসেন বলেন, 'শুল্কসুবিধা বজায় থাকলে আমাদের পণ্যগুলোর ভারতীয় বাজারে প্রবেশ সহজ হবে এবং ভোক্তাদের জন্য মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে'। এইসব মন্তব্যের পর বাজার বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে শুল্কসুবিধা প্রত্যাহার না হলে দু'দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণে হ্রাস দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য একটি কর্মদল গঠন করেছে এবং WTO (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা) তে বিষয়টি উত্থাপন করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ভারতীয় সরকারও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করে শুল্ক নীতি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেবে বলে জানিয়েছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশ শুল্কসুবিধা বজায় রেখে লিডারশিপ স্তরে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে চায়। এই পদক্ষেপগুলো সফল হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং রপ্তানিকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।