রাষ্ট্রপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বল্প সময়ে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অধিকার কমিটি চুক্তির স্বচ্ছতা ও শর্তাবলী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিশেষ করে বিএনপি নেতাদের মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। চুক্তির মোট মূল্য, শর্তাবলী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ড একটি আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা সংস্থা, যা পূর্বে বাংলাদেশে বন্দর উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সরকার ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা জানায়। তবে পূর্বে একই ধরনের চুক্তিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল, যা এইবারের চুক্তিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। বিএনপি, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে, তার নীতি ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে এই চুক্তির সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষকরা নানা অনুমান করছেন।
অধিকার কমিটির প্রধান সদস্য চৌধুরী বলেন, "চুক্তির শর্তাবলী ও স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় যথাযথ জনসচেতনতা ও পারদর্শিতা না থাকায় প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।" অন্যদিকে বিএনপি স্পিকার রেজা হাবিবেরা উল্লেখ করেন, "এটি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, এবং কোনো মুচলেকা বা অস্বচ্ছতা নেই।" জনমতেও বিভাজন দেখা যায়; কিছু নাগরিক উন্নয়নের স্বার্থে চুক্তিকে সমর্থন করেন, আবার অন্যরা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সমালোচনা করেন।
সরকার বর্তমানে চুক্তির বৈধতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংসদে বিশেষ আলোচনার সূচনা করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চুক্তির সকল নথি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা আগামী মাসে আরও স্পষ্টতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।