cox24newsbd.com
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি
জাতীয়

শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি

সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. শরীফ ভূঁইয়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিশ্লেষণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জোর দিয়
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. শরীফ ভূঁইয়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিশ্লেষণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাসক পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রের ক্ষমতা‑কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়, পাশাপাশি বিএনপির ৩১‑দফা অঙ্গীকারের কোনো বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংবিধানিক ন্যায়বিচারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ড. ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার কেবল শীর্ষস্থানীয় পদে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, তবে শাসনব্যবস্থার গঠনমূলক সংস্কার এখনও অগ্রাহ্য রয়ে গেছে।

সংবিধান সংস্কার কমিশন ২০১৯ সালে গঠিত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল সংবিধানের কাঠামোতে আধুনিকায়ন ও নাগরিক অধিকার শক্তিশালী করা। তবে কমিশনের কাজের অগ্রগতি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পার্টি ভিত্তিক বিরোধের কারণে ধীরগতিতে এগিয়ে গিয়েছিল। জুলাই ২০২৪-এ পরিকল্পিত গণ-অভ্যুত্থান, যা বহু রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন সমর্থন করেছিল, শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়। এই ঘটনায় জাতীয় সনদের রায় ও গণভোটের ফলাফলকে পুনর্বিবেচনা করার দাবি তীব্র হয়। তদুপরি, বিএনপির ৩১‑দফা অঙ্গীকার, যা শাসন পরিবর্তন, নির্বাচন সংস্কার এবং মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করেছিল, এখনও কোনো আইনগত পদক্ষেপে রূপান্তরিত হয়নি।

ড. শরীফ ভূঁইয়ার মন্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও বিশ্লেষকগণ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিরোধী দলগুলো সরকারকে সংবিধানিক শাসনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে, আর সরকারী পক্ষের মুখপাত্ররা এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিরোধের অংশ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন। সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোও শাসন পরিবর্তনের পাশাপাশি সংবিধানিক কাঠামোর সংস্কারের দাবি পুনরায় তুলে ধরেছে, বিশেষত বিচারিক স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে; সামাজিক মিডিয়ায় এবং গ্রামীণ বাজারে শাসন পরিবর্তনের পরেও বাস্তবিক পরিবর্তনের অভাব নিয়ে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের নীতি সমিতি গঠন করে, যা সংবিধানিক সংস্কার ও জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন তদারকি করবে বলে জানিয়েছে। সমিতির সদস্যদের মধ্যে আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী এবং পার্টি নেতারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে বহুমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সরকারও আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি ব্যাপক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য হবে ৩১‑দফা অঙ্গীকারের মূল ধারা বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ফলাফলকে সংবিধানিক কাঠামোতে সংযুক্ত করা। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, বাস্তবিক পরিবর্তন আনতে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য, নতুবা শাসক পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রের ক্ষমতা‑কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে যাবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com