cox24newsbd.com
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
দেশের আর্থিক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক
অর্থনীতি

দেশের আর্থিক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক আজ ঢাকা সদর দফতরে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার প্রকল্পে ৪৫ কোটি ডলার (প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা) ঋণ প্রদান করবে বলে ঘোষণা ক
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বিশ্বব্যাংক আজ ঢাকা সদর দফতরে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার প্রকল্পে ৪৫ কোটি ডলার (প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা) ঋণ প্রদান করবে বলে ঘোষণা করেছে। চুক্তির শর্ত অনুসারে, ঋণ পরিশোধের জন্য পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ মোট ২৫ বছরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাতের আধুনিকায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক পরিষেবা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকার এই তহবিলকে মূলধন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি আপগ্রেড এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো সংস্কারের জন্য ব্যবহার করবে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

বাংলাদেশের আর্থিক খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কাঠামোগত দুর্বলতা ও তহবিলের ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। পূর্বে গৃহীত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি পরিকল্পনা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং উদ্যোগ সত্ত্বেও, গ্রামীণ ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী আর্থিক সেবা পৌঁছাতে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। অতএব, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহায়তা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ প্রকল্পটি পূর্বে বাস্তবায়িত 'আর্থিক সেবা উন্নয়ন পরিকল্পনা' এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের আর্থিক অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর সরকারী মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ঋণটি স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং ফলাফলমুখী ব্যবস্থাপনার অধীনে ব্যবহার করা হবে। বিরোধী দলও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাবের আশ্বাস দিয়েছে। আর্থিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, রেয়াতকালীন শর্তাবলী দেশের ঋণসেবার বোঝা কমিয়ে দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়াবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই খবরটি স্বাগত স্বরূপে গ্রহণ করা হয়েছে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কৃষকদের জন্য আর্থিক সেবা সহজলভ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকার ইতিমধ্যে ঋণ ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রদানকারীদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করেছে। আগামী মাসে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে তহবিলের বরাদ্দ, প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং ফলাফল মূল্যায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাংকের তদারকি দলও নিয়মিতভাবে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সুপারিশ করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে, বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com