গত বছর হ্যালোউইনের সন্ধ্যায়, ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের তরুণ তারকা জাহ্নবী কাপুর তার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে মা শ্রীদেবীর প্রতীকী ‘নাগিনা’ চরিত্রের চেহারাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে একটি বিশেষ পোশাক প্রকাশ করেন। মেকআপ শিল্পীর সহায়তায় তিনি ঐতিহ্যবাহী সোনালী চুল, নীলাভ চোখের কন্ট্যাক্ট লেন্স এবং ঐ সময়ের ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো পোশাক পরিধান করে ছবিতে উপস্থিত হন। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার পোস্টটি লক্ষ লক্ষ দর্শকের নজর কাড়ে, মন্তব্য ও শেয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, এবং দেশের বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা এই ঘটনাকে শিরোনাম দিয়ে প্রকাশ করে।
মা শ্রীদেবী, যিনি ১৯৬০ দশকে ‘নাগিনা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এক অবিস্মরণীয় নারী চরিত্রের রূপে দর্শকের হৃদয় জয় করেন, তার এই চিত্রটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ‘নাগিনা’ চরিত্রের সাদা-কালো পোশাক, চমকপ্রদ মেকআপ এবং রহস্যময় দৃষ্টিভঙ্গি বহু দশক ধরে ফ্যাশন ও সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলেছে। হ্যালোউইনের সময়ে এই ঐতিহ্যবাহী চরিত্রের পুনরায় উদ্ভব করা, বিশেষ করে তরুণ শিল্পীর মাধ্যমে, পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি সেতু গড়ে তুলেছে। এই পটভূমি বোঝা ছাড়া ঘটনাটির গুরুত্ব সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা কঠিন।
জাহ্নবী কাপুরের এই উদ্যোগের পর তিনি নিজেই একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে জানান যে, মা শ্রীদেবীর ‘নাগিনা’ চরিত্রটি তার শৈশবের স্মৃতিতে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং তিনি এই চরিত্রের মাধ্যমে পুরাতন স্মৃতিকে আধুনিক যুগের সঙ্গে যুক্ত করতে চান। ভক্তদের প্রতিক্রিয়া তীব্র, অনেকেই মন্তব্যে জানান যে, এই লুকটি দেখলে তারা আবার পুরনো সিনেমার স্বাদে মুগ্ধ হয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘নাগিনা’ হ্যাশট্যাগে হাজারো পোস্ট তৈরি হয়েছে। তবে কিছু সমালোচকও উল্লেখ করেন যে, ঐতিহ্যবাহী চরিত্রের আধুনিক পার্টিতে ব্যবহার কিছুটা অতিরিক্ত হতে পারে।
বিনোদন শিল্পের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং ফ্যাশন ডিজাইনাররা জাহ্নবীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও এমন ঐতিহ্যবাহী চরিত্রের আধুনিক রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা হ্যালোউইন উৎসবের সময় ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম ও পোশাকের প্রদর্শনী আয়োজনের কথা বিবেচনা করছে, যাতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পুরনো চলচ্চিত্রের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে।