cox24newsbd.com
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের মরদেহ ৮২ দিন পর দেশে, ঈদের স্বপ্ন অম্লান
জাতীয়

রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের মরদেহ ৮২ দিন পর দেশে, ঈদের স্বপ্ন অম্লান

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কারখানায় প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসিক ভবনে প্রবৃদ্ধ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক শামীম হোসেনের মরদেহ ৮২ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষার প
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কারখানায় প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসিক ভবনে প্রবৃদ্ধ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক শামীম হোসেনের মরদেহ ৮২ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় নিহত আরেক প্রবাসী সাব্বির আহমেদের মরদেহও একই সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এই দুই প্রবাসীর পরিবারের জন্য এটি ছিল এক অকথ্য দুঃখের দিন, যখন তারা তাদের প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে পেলেন, তবে কফিনবন্দী অবস্থায়। রোজার ঈদের সময় মেয়েকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র শোক ও দুঃখের ছায়া পড়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়। সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত একটি কারখানার আবাসিক ভবনে গত বছরের শেষ দিকে প্রবৃদ্ধ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর দাবি তুলেছিল। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত বাধা, কাগজপত্রের জটিলতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় মরদেহ ফেরাতে ৮২ দিনের মতো দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ অপেক্ষা প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য মানসিকভাবে অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মরদেহ দেশে ফেরার খবর পেয়ে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শামীম হোসেনের পরিবার জানিয়েছে, ঈদের দিন মেয়েকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিবর্তে কফিনবন্দী হয়ে ফিরেছেন। এদিকে, স্থানীয় জনগণ ও প্রবাসী সমাজ এই ঘটনাকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রবাসী অধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মরদেহ ফেরাতে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য সরকারি পর্যায় থেকে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা উচিত। স্থানীয় প্রশাসনও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীদের মরদেহ সনদসহ দেশে ফেরানো হয়েছে এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ ফেরাতে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও, প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে। এই ঘটনাটি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি প্রবাসী নীতিমালা পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com