cox24newsbd.com
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু
ইসলামিক

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতির মানচিত্রে জামায়াতে ইসলামী ও কওমিপন্থীদের মধ্যে চলমান বিরোধ সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় তীব্রতা পেয়েছে। দুই দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের মূল
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতির মানচিত্রে জামায়াতে ইসলামী ও কওমিপন্থীদের মধ্যে চলমান বিরোধ সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় তীব্রতা পেয়েছে। দুই দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের মূল কারণ হল রাজনৈতিক কৌশল, ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং নির্বাচনী জোটের প্রশ্ন। এই বিরোধের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, জনমত গঠন এবং ধর্মীয় সংলাপের ওপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত, কওমিপন্থী গোষ্ঠীর কিছু নেতার প্রকাশ্য মন্তব্য ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিক্রিয়া মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত প্রদান করে।

বিরোধের পটভূমি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরের সময় থেকে শুরু হয়, যখন জামায়াতে ইসলামী ও কওমিপন্থী উভয়েই স্বাধীনতার পরের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। ১৯৭৫ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠা ও ১৯৮০ দশকে কওমি গোষ্ঠীর গঠন দুই দলের আদর্শগত পার্থক্যকে স্পষ্ট করে। কওমি গোষ্ঠী মূলত ইসলামী শাসনের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রাখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে জোট গঠন, ভাঙ্গন এবং পুনরায় জোটের চক্র চলতে থাকে, যা আজকের বিরোধের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

বিরোধের প্রেক্ষাপটে উভয় দলের নেতারা বিভিন্ন প্রকাশনা ও সাক্ষাৎকারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নেতা বলছেন, কওমি গোষ্ঠীর কিছু সদস্যের অতি-ধর্মীয় রেটোরিক্স দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ এবং তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে। অন্যদিকে, কওমি গোষ্ঠীর একজন উঁচু স্তরের নেতা দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক চর্চা ধর্মীয় নীতির বিকৃতি ঘটাচ্ছে এবং তা ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের ক্ষতি করে। এই পারস্পরিক সমালোচনা সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে, বিশেষত ধর্মীয় সংবেদনশীলতা সম্পন্ন এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা সংস্থা এই বিরোধকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। সরকার ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপের জন্য একটি ত্রৈমাসিক সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে উভয় পক্ষের উদ্বেগ শোনা যায় এবং সমঝোতার পথ খোঁজা যায়। পাশাপাশি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে, যদি সংলাপ সফল হয় এবং উভয় গোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় লক্ষ্যকে সমন্বিতভাবে প্রকাশ করতে পারে, তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com