কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মেধা যাচাইয়ের অন্যতম আসর ‘ব্রাইট ফিউচার বৃত্তি পরীক্ষা’ ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সুপ্ত প্রতিভার অন্বেষণ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
শনিবার দুপুর ২ঘটিকা থেকেই চকরিয়া আবাসিক মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এই পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেন্দ্রের সার্বিক শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল।
উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হয়। আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা যায়, এবারের পরীক্ষায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার ছিল বেশ সন্তোষজনক, যা স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রমাণ।
পরিক্ষায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন চকরিয়া আবাসিক মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব জুবাইদুল হক। হল সুপারের দায়িত্ব পালন করেন রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব এরফানুল কবির। সহকারী হল সুপারের দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন চকরিয়া আবাসিক মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক জনাব এডভোকেট শওকত আলী।
পরীক্ষা চলাকালীন সময় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন চকরিয়া ব্রাইট ফিউচার স্কলারশিপ এর সম্মানিত পরিচালক জনাব এখলাছ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেদারুল ইসলাম, আইটি সম্পাদক এইচ এমন নুরুল হান্নান, প্রচার সম্পাদক রবিউল হাসান, দপ্তর সম্পাদক অলিউল হাসান আতিক । এসময় তাঁরা পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পরিদর্শন শেষে অতিথিবৃন্দ বলেন, "শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ব্রাইট ফিউচার বৃত্তি প্রকল্পের এই মহতী উদ্যোগ চকরিয়ার তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিক্ষার্থীদের আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করবে।"
ব্রাইট ফিউচার বৃত্তি পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, "গ্রাম ও প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা মেধাবীদের খুঁজে বের করে তাদের উৎসাহিত করাই আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি।"
আয়োজক কমিটি আরও জানায়, খুব শিগগিরই উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ শেষ করে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।