আজ শনিবার সকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের দাবিগুলো জনগণের দাবি। জনগণের ভোগান্তির অবসান এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা মাঠে নেমেছি। মহান আল্লাহর মেহেরবানিতে জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আগের লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি বলেন, সাত দফা দাবির মূল বিষয় একটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই বাকি ছয় দফার জন্ম হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে চাঁদাবাজ, দখলদার, দুর্নীতিবাজ ও মাদক সম্রাটরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপি জাতিকে হতাশ করেছে। জাতির সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। কথা দিয়ে কথা রাখেনি। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। জাতির আকাঙ্ক্ষা ও গণরায়কে উপহাস করেছে। বিএনপিকে ভালো পথে ফিরে এসে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। তা না হলে দলটিকে উচ্চমূল্য দিতে হবে। বিএনপি অতীতের স্বৈরাচারী শাসন ও নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। এই সফরে কী উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়েছিল এবং কী অর্জন হয়েছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, তা জনগণ জানতে চায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না। অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, এখন তাদের পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ পার পাবে না। সরকারকে অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নিয়ে সুস্থ ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৯ নভেম্বর সংসদ বসার আগেই নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে ঘোষণা দিন যে আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করব। এই ঘোষণা দিলে বিরোধী দলের আপাতত আর কোনো কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।’
গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনগণের এই দাবি ও ভোটের রায়কে অপমানিত হতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
যুবসমাজকে বৃহত্তর ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করা হচ্ছে। রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা জাতিকে সাময়িক মুক্তি এনে দিয়েছে। সেই মুক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে আবারও লড়াই করতে হবে।
প্রসঙ্গত, এ সময় এনসিপির কোনো নেতাকে দেখতে পাওয়া যায়নি।