cox24newsbd.com
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত: ধর্মীয় বিশ্বাসের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামিক

কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত: ধর্মীয় বিশ্বাসের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে প্রাণী পোষণ নিয়ে একটি গভীর বিভাজন বিরাজমান, যা প্রায়শই ‘কুকুর পোষা পাপ, আর বিড়াল পোষা সুন্নত’ এই প্রচলিত বক্তব্যের ভিত্তিত
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে প্রাণী পোষণ নিয়ে একটি গভীর বিভাজন বিরাজমান, যা প্রায়শই ‘কুকুর পোষা পাপ, আর বিড়াল পোষা সুন্নত’ এই প্রচলিত বক্তব্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এই ধারণাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে এতটাই প্রচলিত যে, অনেকেই কুকুরকে ঘৃণার চোখে দেখেন এবং তাকে ঘরবাড়ির বাইরে রাখতে চান, অন্যদিকে বিড়ালকে পরম আদরে ঘরে স্থান দিয়ে সেবাসহকারে রাখেন। এই দ্বন্দ্বমূলক মানসিকতা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় আলোচনায় নতুন করে জোরালো আকার ধারণ করেছে, যাতে ধর্মীয় আদর্শের সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে।

এই প্রচলিত বিশ্বাসের পটভূমি হলো ইসলামি শাস্ত্রীয় টেকস্টের কিছু নির্দিষ্ট হাদিস ও ফিকহি মতামতের ভুল বোঝাবুঝি। শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিড়ালকে ‘তাহারা’ বা পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ নবী করিম (সা.) বিড়ালকে ঘরে রাখতে বাধা দেয়নি এবং এমনকি বিড়ালের জন্য পানির ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, কুকুরের ক্ষেত্রে শাস্ত্রে তার লালাকে অশুচি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং ঘরের ভেতরে কুকুর রাখা নিয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে এটি কুকুরকে সম্পূর্ণভাবে ঘৃণা করার বা তাকে নির্যাতন করার অনুমতি দেয় না। অনেক মানুষ এই শাস্ত্রীয় নির্দেশনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে নিয়ে কুকুরকে একেবারেই অশুচি ও পাপের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলেছেন, যা ধর্মের আসল উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংশ্লিষ্ট ধর্মগুরু ও ইসলামিক স্কলারদের মতে, প্রাণীদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি ইসলামের মূল বৈশিষ্ট্য। তারা উল্লেখ করেন যে, বিড়াল পোষণকে ‘সুন্নত’ হিসেবে গণ্য করা ঠিক নয়, বরং তা একটি নিষিদ্ধ বা পাপমূলক কাজ নয়। একইভাবে, কুকুরকে পোষণ করা যদিও ঘরের ভেতরে নিষিদ্ধ, তবে কুকুরকে খাওয়া-দাওয়া করা, তাকে নিরাপদ রাখা বা শিকারের কাজে ব্যবহার করা বৈধ। জনজীবনে এই ভুল ধারণার প্রভাব লক্ষণীয়, যেখানে কুকুরপালকদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দেখা দেয় এবং বিড়ালপালকদের মধ্যে একটি অতিরিক্ত আনুগত্যের প্রবণতা তৈরি হয়। এই মানসিকতা প্রাণীসেবায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে এবং প্রকৃত ধর্মীয় দায়িত্বপালনের চেয়ে বেশি রীতিনীতিগত আচার-অনুষ্ঠানে জোর দেয়।

কর্তৃপক্ষ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত বুলেটিন ও লেকচারে স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, প্রাণীদের প্রতি আচরণে মধ্যপন্থী অবস্থান গ্রহণ করা উচিত। ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষা কারিকুলামে প্রাণীসেবা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ শাস্ত্রের সঠিক ব্যাখ্যা বুঝতে পারে। এছাড়া, প্রাণীসেবায় সামাজিক সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ধর্মীয় নেতাদের সাথে সামাজিক কর্মীদের সমন্বিত প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে ‘পাপ’ ও ‘সুন্নত’-এর এই কৃত্রিম বিভাজন দূর হয়ে প্রাণীসেবায় মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্বপালন সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com