cox24newsbd.com
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ-আসামে বন্যা সতর্কতা
জাতীয়

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ-আসামে বন্যা সতর্কতা

ভুটানের উত্তর‑পশ্চিমাঞ্চলের গাসা জেলায় শিনতাফু হ্রদে হিমবাহের বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গলে বিশাল পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়ে হ্রদের তীরবর্তী এলাকা দ্রুত বন্যায় নিমজ্জিত হয়।
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

ভুটানের উত্তর‑পশ্চিমাঞ্চলের গাসা জেলায় শিনতাফু হ্রদে হিমবাহের বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গলে বিশাল পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়ে হ্রদের তীরবর্তী এলাকা দ্রুত বন্যায় নিমজ্জিত হয়। ২৪‑ঘণ্টার মধ্যে হ্রদের তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম ও পথ ধ্বংস হয়ে যায়, এবং আশেপাশের কৃষিজমি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনাটি ভুটানের গ্লেসিয়াল হ্রদের বিপদজনক পরিস্থিতি আবারও সামনে তুলে ধরে এবং প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি জেলা ও উপজেলা কর্তৃপক্ষকে বন্যা সতর্কতা জারি করতে বাধ্য করে।

শিনতাফু হ্রদটি ভুটানের অন্যতম বৃহৎ গ্লেসিয়াল হ্রদ, যা গ্লেসিয়াল বরফের গলন ও তুষারপাতের ফলে গঠিত। সাম্প্রতিক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্লেসিয়াল হ্রদগুলির আকার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বাঁধের স্থিতিশীলতা হ্রাস পায়। ২০১৭‑২০১৮ সালে গাসা জেলায় অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে হিমবাহের বাঁধ ভেঙে গলে গ্লেসিয়াল হ্রদ থেকে প্রবাহিত পানি বিপর্যয় ঘটায়। এই প্রেক্ষাপটে শিনতাফু হ্রদের বাঁধ ভাঙা পূর্ববর্তী ঘটনাগুলির একটি পুনরাবৃত্তি, যা গ্লেসিয়াল হ্রদ পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জরুরি প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে।

ভুটানের জাতীয় গ্লেসিয়াল হ্রদ পর্যবেক্ষণ বিভাগ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এবং স্থানীয় জনগণকে তৎক্ষণাৎ সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেয়। একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সরকারী কর্মকর্তারা হিমবাহের হ্রদ ভাঙার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা কর্তৃপক্ষকে বন্যা সতর্কতা জারি করেন এবং সড়ক বন্ধ, সেতু বন্ধ ও উদ্ধার কর্মসূচি শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গৃহস্থালি সামগ্রী ও পশুসম্পদ হারানোর ভয় প্রকাশ করেন, আর উদ্ধার কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন। উভয় দেশের কর্মকর্তারা গ্লেসিয়াল হ্রদ পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য যৌথ কাজের আহ্বান জানান।

বর্তমানে ভুটান সরকার গ্লেসিয়াল হ্রদের বাঁধের স্থিতিশীলতা মূল্যায়নের জন্য বিশেষ টিম গঠন করেছে এবং হিমবাহের গলন প্রবণতা পর্যবেক্ষণের জন্য রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ভারতীয় সরকারও গ্লেসিয়াল হ্রদ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় করে হিমবাহের বাঁধ ভাঙার সম্ভাব্য অঞ্চল চিহ্নিত করে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করেছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশই গ্লেসিয়াল হ্রদ পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা শক্তিশালী করার জন্য যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময় প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই ঘটনাটি গ্লেসিয়াল হ্রদের বিপদজনক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com