cox24newsbd.com
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
মেঘনায় গুলিবিদ্ধ জেলের মৃত্যু : ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি, থানায় পুলিশের জিডি
জাতীয়

মেঘনায় গুলিবিদ্ধ জেলের মৃত্যু : ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি, থানায় পুলিশের জিডি

বরিশালের হিজলা থানা নিকটবর্তী মেঘনা নদীর তীরে ২৪ ঘণ্টা আগে জেলে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত পাওয়া যায়। হাওলাদারকে গৃহবন্দি অবস্থায় রক্ষা করা হই
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

বরিশালের হিজলা থানা নিকটবর্তী মেঘনা নদীর তীরে ২৪ ঘণ্টা আগে জেলে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত পাওয়া যায়। হাওলাদারকে গৃহবন্দি অবস্থায় রক্ষা করা হইলেও, নদীর তীরে গুলি চালানোর পর তার দেহে একাধিক গুলিবিদ্ধ চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দ্রুত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে, তবে ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) দাখিল করা হয়নি। এই অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের সঞ্চার করেছে, কারণ গুলিবিদ্ধ জেলের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে একটি অপরাধমূলক তদন্তের দাবি করে।

হাওলাদারকে পূর্বে হিজলা জেল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল জেল পর্যন্ত স্থানান্তর করা হয়েছিল, যেখানে তিনি অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। তার পূর্বে জেলভিত্তিক গুলিবিদ্ধ ঘটনার কোনো রেকর্ড না থাকলেও, জেলভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং গুলিবিদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে পূর্বে কিছু সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছিল। এছাড়া, হাওলাদারকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখার পরেও জেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে কিছু ত্রুটি দেখা গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পটভূমি ঘটনাটিকে শুধুমাত্র একক অপরাধ নয়, বরং জেল ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছে।

ঘটনার পরপরই হাওলাদারের পরিবার ও আইনজীবীরা জেল কর্তৃপক্ষের ওপর কঠোর সমালোচনা প্রকাশ করে, দাবি করে যে গুলিবিদ্ধের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে পুলিশ ও জেল নিরাপত্তা বিভাগে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস বংলাদেশ’ও এই ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা দাবি করে, এবং জেলভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন প্রস্তাব করে। স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিকদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি রাগ ও হতাশা স্পষ্ট, যেখানে অনেকেই জেলভিত্তিক গুলিবিদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধের অস্ত্র ও গুলি চিহ্নের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে এ পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা গুলিবিদ্ধের সূত্র প্রকাশিত হয়নি।

অধিকর্তা গৃহবন্দি নিরাপত্তা ও জেল ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে তৎক্ষণাৎ একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। গৃহবন্দি নিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, গুলিবিদ্ধের ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ, গুলি চিহ্নের তুলনা এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে। এছাড়া, হোম মন্ত্রণালয়কে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলভিত্তিক নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করে, গুলিবিদ্ধের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য জেলভিত্তিক ক্যামেরা, গুলিবিদ্ধ শনাক্তকরণ সিস্টেম এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com