cox24newsbd.com
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ছোবল খেয়ে মুঠোফোনের আলোয় সাপ ধরলেন, নিয়ে গেলেন হাসপাতালে
জাতীয়

ছোবল খেয়ে মুঠোফোনের আলোয় সাপ ধরলেন, নিয়ে গেলেন হাসপাতালে

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যায়। ছোবল (বাতাসের গন্ধ) শুঁকে মুঠোফোনের টর্চল
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যায়। ছোবল (বাতাসের গন্ধ) শুঁকে মুঠোফোনের টর্চলাইটের আলোয় সাপকে অনুসরণ করে এক স্থানীয় কৃষক, মোহাম্মদ আলী, সাপটিকে জোরে ধরতে সক্ষম হন। সাপটি প্রায় এক মিটার লম্বা, বিষাক্ত কপার সাপের প্রজাতি, যা স্থানীয়ভাবে প্রায়ই কৃষকরা শস্যক্ষেত্রে দেখতে পান। আলী সাপটি ধরার সঙ্গে সঙ্গেই তার হাতে ছোটখাটো আঘাত পায় এবং তৎক্ষণাৎ সাপের বিষের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে তৎকালীন উদ্বেগ ও কৌতূহল সৃষ্টি করে।

সাপের কামড়ের ঝুঁকি টাঙ্গাইলের গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পুকুর, ধানক্ষেত্র ও বনের প্রান্তে সাপের উপস্থিতি বাড়ে, ফলে কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে সাপের কামড়ের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। পূর্বে একই উপজেলায় কয়েকটি সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলোতে প্রায়শই সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় গুরুতর জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে সাপের বিষের অ্যান্টিভেনোমের সরবরাহ সীমিত, ফলে রোগীর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই একমাত্র বেঁচে থাকার সম্ভাবনা। এই প্রেক্ষাপটে আলীর দ্রুত পদক্ষেপ ও সাপটি নিরাপদে ধরতে পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনা ঘটার পরই স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরা মোহাম্মদ আলীর প্রশংসা করে, তার সাহসিকতা ও দ্রুত কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আলী নিজে বলেন, “ছোবল শুঁকে সাপের গতি বুঝতে পারলাম, তাই মুঠোফোনের আলোয় তার পথ অনুসরণ করে ধরতে পেরেছি। এখনই হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টিভেনোম দিলেই হবে।” স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাঃ রশিদুল হক জানান, “আলী দ্রুত সাপটি ধরতে পেরেছেন, যা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তৎক্ষণাৎ অ্যান্টিভেনোম ও সমর্থনমূলক চিকিৎসা প্রদান করেছি।” স্থানীয় মানুষদের মধ্যে সাপের প্রতি ভয় ও অবহেলা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অধিকর্তারা ঘটনাটিকে সতর্কতা সংকেত হিসেবে গ্রহণ করে, সাপের বিষের অ্যান্টিভেনোমের স্টক বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় সাপের প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণ চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। টাঙ্গাইলের জেলা স্বাস্থ্য অফিসের প্রধান, ডাঃ নূরজাহান বেগম বলেন, “এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া জরুরি। আমরা এখন থেকে প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অ্যান্টিভেনোমের পর্যাপ্ত পরিমাণ নিশ্চিত করব এবং সাপের আচরণ, প্রথম সাহায্য ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করব।” এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন সাপের আবাসস্থল পরিষ্কার করা, গাছপালা নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণকে সাপের ছোবল শুঁকার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য বলে কর্তৃপক্ষ জোর দিয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com