cox24newsbd.com
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ
আন্তজাতিক

পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে লক্ষ্য করে সরকারী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ তার একমাত্র পুত্র সুলাইমান খান ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রকাশ করেন।
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে লক্ষ্য করে সরকারী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ তার একমাত্র পুত্র সুলাইমান খান ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রকাশ করেন। সুলাইমানের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর একদল সদস্য ইমরান খানের গৃহে অনুপ্রবেশ করে গুলি চালানোর প্রস্তুতি নেয় এবং তার পিতার জীবনের হুমকি সৃষ্টি করে। এই ঘটনা ঘটার সময় ইমরান খান ঢাকা‑সিলেট রেলওয়ে সেতু পারাপারের পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, এবং তার গাড়ির আশেপাশে অজানা গুলি শোনার পর তিনি অবিলম্বে গতি কমিয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা নেন। সুলাইমানের এই অভিযোগের ফলে পাকিস্তানি রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ঘটনাটিকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতে শুরু করেন।

ইমরান খান ও তার পার্টি পিটিআই (PTI) গত কয়েক বছর ধরে সরকারী বিরোধিতা, বিচারিক মামলা এবং মিডিয়ার সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালে তিনি সরকারবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পূর্বে কয়েকটি গুলিবর্ষণ, গাড়ি ধ্বংস এবং বাড়ি ধ্বংসের অভিযোগে তিনি ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই পটভূমি সুলাইমানের বর্তমান অভিযোগকে আরও গুরুতর করে তুলেছে, কারণ এটি পূর্বের সন্ত্রাসী ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ক্ষমতা সংগ্রাম তীব্রতর হয়েছে, যা নিরাপত্তা সংস্থার স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচারকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সুলাইমানের অভিযোগের পর PTI নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ পায়। পার্টির জাতীয় সভাপতি জাহানগর গুলাম গিলানী বলেন, “এটি একধরনের রাষ্ট্রহত্যার প্রচেষ্টা, যা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে।” একই সঙ্গে, পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র সরকারী দিক থেকে অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা বা কার্যক্রমের কোনো প্রমাণ নেই এবং এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।” দেশের বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংস্থা ঘটনাটিকে নিন্দা করে এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, যেখানে কিছু নাগরিক সরকারকে ‘অধিকারের অপব্যবহার’ হিসেবে সমালোচনা করে, অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী নিরাপত্তা সংস্থার স্বাভাবিক কাজকর্মকে সমর্থন করে।

এই ঘটনার পর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বিভাগ একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে, ইমরান খানের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড নিয়োগ করা হয়েছে এবং তার পরিবারের জন্য সুরক্ষা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোও এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সত্যিই সরকারী স্তরে কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা থাকে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর আইনি কাঠামো প্রয়োজন হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ cox24newsbd.com